ভরসন্ধেয় স্ত্রীর উপর গুলি, মাঝ-বাজারে হত্যাকাণ্ড, হতবাক পুলিশও

ভরা বাজারের মধ্যে স্ত্রীকে গুলি করে খুন করার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। শুধু তাই নয়, পুলিশি জেরায় অভিযুক্ত ব্যক্তি দাবি করেছেন যে, স্ত্রীর হত্যাকাণ্ডে তাঁর বিন্দুমাত্র অনুশোচনা নেই। উত্তরপ্রদেশের গোরক্ষপুরের শাহপুর এলাকায় এই ঘটনায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে।

১৩ বছরের বিবাদ, পরিণতি নির্মম
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত বিশ্বকর্মা চৌহান (৪৫) তাঁর স্ত্রী মমতা চৌহানকে (৩৫) গুলি করেন। দীর্ঘদিন ধরে দুজনের মধ্যে দাম্পত্য কলহ চলছিল। ১৩ বছর বয়সী মেয়েকে নিয়ে মমতা আলাদা থাকতেন। সম্প্রতি তিনি বিবাহ বিচ্ছেদের আগে স্বামীর কাছে জমি এবং মেয়ের ভরণপোষণের জন্য টাকা দাবি করেন। এই বিষয় নিয়েই দুজনের মধ্যে বিবাদ চরম পর্যায়ে পৌঁছায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার সন্ধ্যায় একটি ফটো স্টুডিওর বাইরে দুজনের মধ্যে তুমুল বাদানুবাদ হয়। এর পরই বিশ্বকর্মা হঠাৎ বন্দুক বের করে মমতাকে লক্ষ্য করে দু’রাউন্ড গুলি চালান। গুরুতর আহত অবস্থায় মমতাকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষরক্ষা হয়নি।

দিল্লির ঘটনাতেও পারিবারিক কলহ
এদিকে, দিন কয়েক আগেই দিল্লির রোহিণীতে পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রী এবং শাশুড়িকে খুনের অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ছেলের জন্মদিনের উপহার নিয়ে বিবাদের সূত্রপাত হয়। অভিযোগ, এই বিবাদের জেরে যোগেশ নামের ওই ব্যক্তি তাঁর স্ত্রী প্রিয়া এবং শাশুড়ি কুসুমকে নির্মমভাবে খুন করেন। মেঘ নামে কুসুমের ছেলে পুলিশকে জানায়, জন্মদিন শেষ হওয়ার পর তিনি বারবার ফোন করেও মা-দিদির সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি। পরে তিনি বাড়িতে গিয়ে দেখেন, বাইরে থেকে দরজা তালা দেওয়া এবং বাইরে রক্তের দাগ। খবর পেয়ে পুলিশ দরজা ভেঙে দুজনের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে। পুলিশ যোগেশকে গ্রেপ্তার করেছে এবং খুনে ব্যবহৃত কাঁচি ও রক্তমাখা পোশাক উদ্ধার করেছে। উভয় ঘটনাতেই পারিবারিক বিবাদের জেরে মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, যা সমাজের গভীর ক্ষতকে তুলে ধরছে।