বিশেষ: ১৭ না ১৮, কবে পড়েছে বিশ্বকর্মা পুজো? জানুন বিশ্বকর্মা পুজোর বিশেষত্ব

হিন্দু ধর্মের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দেবতা হলেন বিশ্বকর্মা। পুরাণ অনুযায়ী, তিনি বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের স্থপতি এবং ব্রহ্মার পুত্র। তাই তাকে ‘স্বয়ম্ভু’ এবং ‘বিশ্বের স্রষ্টা’ হিসেবেও মানা হয়। বিভিন্ন পেশার মানুষ, বিশেষ করে যারা যন্ত্রপাতি ও শিল্পের সঙ্গে জড়িত, তারা এই দিনটি অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেন।
ভাদ্র মাসের সংক্রান্তি তিথিকে ‘কন্যা সংক্রান্তি’ বলা হয় এবং এই দিনেই বিশ্বকর্মার জন্ম হয়েছিল বলে মনে করা হয়। হিন্দু ধর্মে অধিকাংশ দেবদেবীর পূজার তিথি চন্দ্রের গতিবিধি অনুসারে নির্ধারিত হলেও, বিশ্বকর্মা পুজোর তিথি স্থির করা হয় সূর্যের গতিবিধির ওপর নির্ভর করে। যখন সূর্য সিংহ রাশি থেকে কন্যা রাশিতে প্রবেশ করে, তখন এই পূজা হয়। বিশ্বাস করা হয় যে, এই সময়ে দেবতারা নিদ্রা থেকে জেগে ওঠেন।
দেবশিল্পী বিশ্বকর্মা
পুরাণ অনুযায়ী, বিশ্বকর্মা শুধু ব্রহ্মাণ্ডের নকশাই তৈরি করেননি, তিনি বিভিন্ন দেবদেবীর জন্য নানান জিনিসও তৈরি করেছেন।
- তিনি শ্রীকৃষ্ণের রাজধানী দ্বারকা নগরী এবং রামায়ণে বর্ণিত লঙ্কা নগরী নির্মাণ করেছিলেন।
- তিনি পাণ্ডবদের মায়া সভা এবং ব্রহ্মার পুষ্পক রথ তৈরি করেছিলেন।
- বিষ্ণুর সুদর্শন চক্র, শিবের ত্রিশূল এবং ইন্দ্রের বজ্র-এর মতো দেব-অস্ত্রগুলোও তারই তৈরি করা।
- কথিত আছে, পুরীর বিখ্যাত জগন্নাথমূর্তিও তিনি নিজেই নির্মাণ করেছিলেন।
বিশ্বকর্মা পূজা ২০২৫-এর দিনক্ষণ ও শুভ মুহূর্ত
- পূজার তারিখ: এই বছর বিশ্বকর্মা পূজা ১৭ সেপ্টেম্বর, মঙ্গলবার (বাংলায় ৩১ ভাদ্র) পড়েছে।
- শুভ সময়:
- অমৃত যোগ: সকাল ৭টা ২ মিনিটের মধ্যে এবং ৯টা ৩১ মিনিট থেকে ১১টা ১০ মিনিটের মধ্যে। বিকেলে ৩টা ১৮ মিনিট থেকে ৪টা ৫৭ মিনিটের মধ্যে। রাতে ৬টা ৩৩ মিনিট থেকে ৮টা ৫৩ মিনিটের মধ্যে এবং রাত ১টা ৩১ মিনিট থেকে ভোর ৫টা ২৭ মিনিটের মধ্যে।
- মাহেন্দ্রযোগ: দুপুর ১টা ৩৯ মিনিট থেকে ৩টা ১৮ মিনিটের মধ্যে এবং রাত ৮টা ৫৩ মিনিট থেকে ১০টা ২৫ মিনিটের মধ্যে।
এই শুভ মুহূর্তগুলোতে পূজা করলে তা বিশেষ ফলদায়ী হয় বলে মনে করা হয়।