শিশু শ্রমিককে নির্মমভাবে মারধর, ফের নজরে উত্তর ২৪ পরগনা

উত্তর ২৪ পরগনার বারাসত থানার দেগঙ্গার নুরনগর পঞ্চায়েতের খেজুরডাঙা গ্রামে একটি ব্যাগ তৈরির কারখানায় ১২ বছর বয়সী এক শিশু শ্রমিককে বেধড়ক মারধর করার অভিযোগ উঠেছে। কারখানার মালিকের বাবার বিরুদ্ধে এই গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। মারের চোটে গুরুতর আহত অবস্থায় ওই কিশোরকে বারাসত সরকারি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এবং থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। বারাসত থানার পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।


 

কী ঘটেছিল?

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার কাজ করার সময় দুই শিশু শ্রমিকের মধ্যে সামান্য গোলমাল হয়। অভিযোগ, এই ঘটনার জেরে কারখানার মালিকের বাবা মজিদ মণ্ডল ওই শিশুটিকে নির্মমভাবে মারধর করেন। প্রচণ্ড মারের কারণে সে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে প্রথমে বিশ্বনাথপুর গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যায় এবং পরে বারাসত সরকারি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।

তবে অভিযুক্ত মজিদ মণ্ডল তার বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, “ওই শিশুটি আমার নাতিকে মেরেছিল। আমি শুধু ওদের ঝগড়া থামিয়ে দিয়েছি, কোনো মারধর করিনি।”


 

আকরার ঘটনার পুনরাবৃত্তি?

 

এই ঘটনাটি আকরার একটি পোশাক কারখানায় শিশু শ্রমিককে নির্যাতনের ভয়াবহ ঘটনার স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে। গত ২৮ মে মহেশতলার একটি জিন্স কারখানায় এক নাবালককে উল্টো করে ঝুলিয়ে বিদ্যুতের শক দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল, যার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছিল। সেই ঘটনার পর নিখোঁজ হয়ে যাওয়া শিশুটি ৪২ দিন পর বাড়ি ফিরেছিল। এই ধরনের একের পর এক ঘটনা রাজ্যে শিশু শ্রমিকের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। বারাসতের ঘটনায় পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত চলছে এবং প্রকৃত দোষীকে দ্রুত গ্রেপ্তার করা হবে।