দেশের স্বাস্থ্যচিত্রে নতুন দিগন্ত, শিশু মৃত্যুর হারে রেকর্ড গড়ল মণিপুর

দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় যুক্ত করল উত্তর-পূর্বের রাজ্য মণিপুর। সদ্য প্রকাশিত স্যাম্পল রেজিস্ট্রেশন সিস্টেম (SRS) রিপোর্ট অনুযায়ী, মণিপুরে প্রতি ১ হাজার জীবিত শিশুর মধ্যে মাত্র ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই অভাবনীয় সাফল্য দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং স্বাস্থ্যখাতে মণিপুরকে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে।
জাতীয় স্তরে রেকর্ড পতন
মণিপুরের এই সাফল্যের পাশাপাশি জাতীয় স্তরেও শিশু মৃত্যুহার (IMR) উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ২০২৩ সালে সারা ভারতে শিশু মৃত্যুহার রেকর্ডভাবে ২৫-এ নেমে এসেছে, যা ২০১৩ সালের ৪০-এর তুলনায় ৩৭.৫ শতাংশের বিশাল পতন। এই তালিকায় মণিপুরের পর দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে কেরল (Kerala), যেখানে শিশু মৃত্যুহার ৫-এর একক অঙ্কে নেমে এসেছে। দেশের ২১টি বড় রাজ্যের মধ্যে একমাত্র কেরলেরই একক-অঙ্কের IMR রয়েছে।
গ্রামীণ ও শহুরে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নতি
রিপোর্ট থেকে জানা যায়, গ্রামীণ ও শহুরে উভয় ক্ষেত্রেই স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নতি হয়েছে। গ্রামীণ এলাকায় IMR ৪৪ থেকে ২৮-এ নেমে এসেছে, যা প্রায় ৩৬% পতন। একই সময়ে শহুরে এলাকায় ২৭ থেকে ১৮-এ নেমেছে, অর্থাৎ ৩৩% পতন। জন্মহার ও মৃত্যুহারও এই দশকে কমেছে, যা দেশের সামগ্রিক জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নতির প্রতিফলন।
জন্ম ও মৃত্যুহারের পরিসংখ্যান
রিপোর্ট অনুযায়ী, ১৯৭১ সালে দেশের জন্মহার ছিল ৩৬.৯, যা ২০২৩ সালে কমে ১৮.৪ হয়েছে। অন্যদিকে, মৃত্যুহার ১৯৭১ সালের ১৪.৯ থেকে কমে ২০২৩ সালে ৬.৪-এ দাঁড়িয়েছে। বিহারের জন্মহার সর্বোচ্চ (২৫.৮), আর সর্বনিম্ন আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে (১০.১)।
শিশুমৃত্যুহার কমার কারণ
বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুমৃত্যুহার কমার প্রধান কারণ হলো মা ও শিশুর স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সামগ্রিক উন্নতি। গর্ভবতী মহিলাদের উন্নত চিকিৎসা, উন্নত প্রসূতি ব্যবস্থাপনা, এবং নবজাতকের বিশেষ যত্নের ফলে এই সাফল্য এসেছে। এছাড়াও, টিকাকরণ কর্মসূচির সম্প্রসারণ এবং সরকারের পুষ্টি নিশ্চিতকরণ প্রকল্পগুলো শিশু ও মাতৃমৃত্যু কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।