বিহারে ভোটের দামামা, অক্টোবরেই নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা

বিহারে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ খুব শীঘ্রই ঘোষণা হতে চলেছে। সূত্রের খবর অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশন বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা হালনাগাদ করার পর আগামী অক্টোবরের প্রথম বা দ্বিতীয় সপ্তাহে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করতে পারে। এই ঘোষণা সম্ভবত দুর্গাপূজা এবং দশেরার পরেই করা হবে।

কবে ভোট ও গণনা?

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বিহারে ভোটগ্রহণ পর্ব দুই বা তিন দফায় অনুষ্ঠিত হতে পারে, সম্ভবত ছট পূজার পর নভেম্বরের দিকে। ভোট গণনা ১৫ থেকে ২০ নভেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন হতে পারে এবং সমগ্র নির্বাচন প্রক্রিয়া ২২ নভেম্বরের আগেই শেষ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা

এই নির্বাচনে প্রধানত দুটি জোটের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। একদিকে রয়েছে ক্ষমতাসীন ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক অ্যালায়েন্স (এনডিএ), যেখানে বিজেপি, জেডি(ইউ) এবং এলজেপি’র মতো দলগুলো রয়েছে। অন্যদিকে, বিরোধী ইন্ডিয়া ব্লকে রয়েছে আরজেডি, কংগ্রেস এবং বাম দলগুলো। বিহার বিধানসভার মোট আসন সংখ্যা ২৪৩। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ১২২টি আসন। বর্তমানে এনডিএ-র দখলে ১৩১টি আসন এবং বিরোধী ইন্ডিয়া ব্লকের ১১১টি আসন রয়েছে।

ভোটের আগের রাজনৈতিক অস্থিরতা

২০২০ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর এনডিএ সরকার গঠন করে, যার মুখ্যমন্ত্রী হন নীতিশ কুমার। কিন্তু ২০২২ সালের আগস্টে তিনি এনডিএ ছেড়ে আরজেডি-র সঙ্গে জোট করে সরকার গঠন করেন। এরপর ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে আবারও তিনি আরজেডি-র সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ-তে ফিরে আসেন। এই ঘন ঘন রাজনৈতিক পট পরিবর্তন এবারের নির্বাচনকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।

ভোটার তালিকা নিয়ে বিতর্ক

এদিকে, কংগ্রেস বিহারের ভোটার তালিকা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে প্রায় ৮৯ লক্ষ অভিযোগ জমা দিয়েছে। যদিও রাজ্যের প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কংগ্রেস যথাযথ প্রক্রিয়া মেনে অভিযোগের নির্ধারিত ফর্ম পূরণ করেনি। অন্যদিকে, সিপিআই (এমএল) লিবারেশন-এর পক্ষ থেকেও ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া এবং নতুন নাম অন্তর্ভুক্ত করার জন্য অভিযোগ জমা পড়েছে। এই বিতর্ক নির্বাচন শুরুর আগেই রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।