সিনেমার গল্পকেও হার মানায় এমন এক ঘটনা ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগনার বাগদা থানার অন্তর্গত এক গ্রামে। এক প্রতিবেশী যুবকের প্রেমে পড়ে একই বাড়ির দুই গৃহবধূ শ্বশুর, শাশুড়ি ও তিন সন্তানকে বিষাক্ত চা খাইয়ে অজ্ঞান করে পালিয়েছেন। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় গোটা এলাকায় শোরগোল পড়ে গেছে। পরে পুলিশ তদন্তে নেমে দুই গৃহবধূকে গ্রেফতার করেছে, তবে ঘটনার মূল অভিযুক্ত এখনো পলাতক।
কী ঘটেছিল?
বাগদার এক গ্রামে বাবা-মা এবং দুই কন্যাসন্তান নিয়ে দুই ভাই বসবাস করতেন। বড় ভাই কর্মসূত্রে সিঙ্গাপুরে থাকেন। তার অনুপস্থিতিতে বড় বউয়ের সঙ্গে প্রতিবেশী যুবক আরিফ মোল্লার বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এর আগেও দুই সন্তান ফেলে বড় বউ দু’বার আরিফের সঙ্গে পালিয়ে গিয়েছিলেন, কিন্তু পরিবারের অনুরোধে ফিরে আসেন। এরপর একই সম্পর্ক গড়ে ওঠে ছোট বউয়ের সঙ্গে। তাকে নিয়েও আরিফ দু’বার পালিয়ে যান।
ছোট ছেলে (ছোট বউয়ের স্বামী) জানান, তার স্ত্রী কথা দিয়েছিল যে সে সব ভুলে সংসার করবে। কিন্তু সোমবার কাজ থেকে ফিরে তিনি দেখেন তার বাবা, মা এবং তিন সন্তান অজ্ঞান অবস্থায় পড়ে আছে। দুই বউ ও তার ছোট মেয়ে বাড়ি নেই।
বিষাক্ত চা পান করিয়েছিলেন দুই বউই
জ্ঞান ফেরার পর শ্বশুর জানান, সোমবার সন্ধ্যায় আরিফ তাদের বাড়ি এসে দুই বউকে কিছু একটা দিয়ে যায়। এরপরই দুই বউমা তাদের চা করে খাওয়ায়। সেই চা পানের পর সবাই অজ্ঞান হয়ে পড়েন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসকরা জানান, চায়ে বিষাক্ত কিছু মেশানো হয়েছিল।
ছোট বউয়ের স্বামী বলেছেন, “হাসপাতাল থেকে জানতে পেরেছি চায়ে বিষাক্ত কিছু মেশানো হয়েছিল। চা খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়লে দুই বউকে নিয়ে পালিয়ে যায় আরিফ। আমি আরিফ এবং দুই বউয়ের কঠোর শাস্তি চাই।”
পুলিশের তৎপরতায় গ্রেফতার দুই গৃহবধূ
ঘটনার খবর পেয়ে ছোট ছেলের অভিযোগের ভিত্তিতে বাগদা থানার পুলিশ তদন্ত শুরু করে। মোবাইল টাওয়ার লোকেশন ট্র্যাক করে পুলিশ পালিয়ে যাওয়া দুই গৃহবধূকে গ্রেফতার করেছে। তারা কেন এই ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে ঘটনার মূল অভিযুক্ত আরিফ মোল্লা এখনো পলাতক। তার খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। এই ঘটনার পর আরিফের স্ত্রীও থানায় এসে বলেন, “আমারও দুই সন্তান আছে। এই লোকগুলো আমার সংসারও নষ্ট করেছে। আরিফ এবং দুই বউয়ের শাস্তি চাই।”