অবৈধ বিদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে চলেছে কেন্দ্র। দেশের সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে ডিটেনশন সেন্টার বা আটক শিবির তৈরির নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। এই ঘোষণার পর ভিনরাজ্যে কর্মরত বাংলাভাষী পরিযায়ী শ্রমিকদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
কেন ডিটেনশন সেন্টার?
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, যে সব বিদেশি নাগরিক অবৈধভাবে ভারতে বসবাস করছেন, তাঁদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর আগে ডিটেনশন সেন্টারে রাখা হবে। সদ্য পাশ হওয়া অভিবাসন ও বিদেশি আইন, ২০২৫ অনুযায়ী, কোনো সন্দেহভাজন ব্যক্তি যদি নিজেকে ভারতীয় প্রমাণ করতে ব্যর্থ হন বা বৈধ কাগজপত্র দেখাতে না পারেন, তাহলে তাঁকে সরাসরি এই আটক শিবিরে পাঠানো হবে। ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালকে এই বিষয়ে অতিরিক্ত ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, যা এই প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত করবে।
বাংলাভাষী শ্রমিকদের হেনস্থার অভিযোগ
গত কয়েক মাস ধরে দেশজুড়ে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের ধরতে বিশেষ অভিযান চলছে। অভিযোগ উঠেছে, এই অভিযানে শুধুমাত্র বাংলা ভাষায় কথা বলার কারণেই অনেক বাংলাভাষী পরিযায়ী শ্রমিককে হেনস্থা করা হচ্ছে। ভিনরাজ্যে কাজ করতে গিয়ে অনেকেই কাগজপত্র দেখাতে না পারায় হয়রানির শিকার হচ্ছেন এবং অনেক ক্ষেত্রে তাঁদের বাংলাদেশে ‘পুশ ব্যাক’ করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ। এই পরিস্থিতিতে ডিটেনশন সেন্টার তৈরির ঘোষণা সাধারণ মানুষের মধ্যে আরও ভয় বাড়িয়েছে।
বিদেশিদের জন্য আরও কঠোর নিয়ম
নতুন আইনে শুধু ডিটেনশন সেন্টারের কথাই বলা হয়নি, বিদেশি নাগরিকদের জন্য আরও বেশ কিছু কঠিন নিয়ম চালু করা হয়েছে।
পর্বত আরোহণ: কোনো বিদেশি নাগরিককে ভারতের কোনো পর্বতশৃঙ্গে উঠতে হলে কেন্দ্রীয় সরকারের বিশেষ অনুমোদন নিতে হবে।
অপরাধ: গুরুতর অপরাধে দোষী প্রমাণিত কোনো বিদেশি নাগরিককে আর ভারতে প্রবেশ করতে বা থাকতে দেওয়া হবে না।
কেন্দ্র সরকারের মতে, এই কঠোর পদক্ষেপ দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদার করবে। তবে, এই আইন প্রয়োগের সময় যাতে কোনো নিরপরাধ ভারতীয় নাগরিক হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করাটাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।