প্রায় ৩২ হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি বাতিল মামলায় ফের নতুন মোড়। কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ মঙ্গলবার মামলার শুনানিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছে। বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি ঋতব্রত কুমার মিত্রের ডিভিশন বেঞ্চ জানতে চেয়েছে, কোন প্রার্থীরা যোগ্য আর কোন প্রার্থীরা অযোগ্য, আদালত কীভাবে তা চিহ্নিত করবে?
আদালতের প্রশ্ন: ‘কাদের বাতিল করব?’ আদালত প্রশ্ন তোলে, “কাদের অ্যাপটিটিউড টেস্ট হয়েছে এবং কাদের হয়নি, কারা দুর্নীতি করে চাকরি পেয়েছেন আর কারা পাননি, আদালত কীভাবে তাঁদের আলাদা করবে? আদালতের পক্ষে এই বাছাই করা সম্ভব নয়।” বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী আরও বলেন, “আপনারা দুর্নীতির অভিযোগ এনেছেন, কিন্তু তার সপক্ষে আমরা প্রমাণ পাচ্ছি না। যদি প্রায় ৩৩ হাজার চাকরি বাতিল করে দেওয়া হয়, তাহলে যাঁরা এই নির্দেশের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন, তাঁরা আবার আদালতে আসবেন। সেক্ষেত্রে মামলা চলতেই থাকবে। বছরের পর বছর এই মামলার শুনানি চলতে থাকবে।”
আদালতের মতে, যদি দুর্নীতির অভিযোগ সত্যি হয়ও, তবে তা প্রমাণিত হতে দীর্ঘ সময় লেগে যাবে, এবং একজন অভিযুক্ত প্রার্থী প্রায় ৭-৮ বছর ধরে চাকরি করে যাবেন।
আদালতের পর্যবেক্ষণ মামলাকারীদের আইনজীবী সৌম্য মজুমদারের উদ্দেশে বিচারপতি বলেন, “আপনাদের অভিযোগ, নিয়োগে অনিয়ম হয়েছে। কিন্তু আমরা কীভাবে এই চাকরি বাতিল করব? আমরা তো ‘সেগ্রিগেট’ করতে পারব না।” আইনজীবী জানান, ২০১৬ সালের ৪২ হাজার নিয়োগের ক্ষেত্রে নিয়ম অনুযায়ী প্যানেল প্রকাশ করা হয়নি। সংরক্ষিত প্রার্থীদের জন্য আলাদা প্যানেল প্রকাশ করার কথা থাকলেও, তা মানা হয়নি।
মামলার পটভূমি ২০২৩ সালের ১২ মে তৎকালীন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় ৩৬ হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি বাতিলের নির্দেশ দিয়েছিলেন, যা পরে কমে ৩২ হাজার হয়। ২০১৪ সালের টেট পরীক্ষার ভিত্তিতে ২০১৬ সালে প্রায় ৪২,৯৪২ জন শিক্ষক নিয়োগ করা হয়েছিল। নিয়োগে একাধিক গলদের অভিযোগ তুলে প্রিয়ঙ্কা নস্কর-সহ ১৪০ জন প্রার্থী হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। তাঁদের অভিযোগ ছিল, নিয়ম মেনে অ্যাপটিটিউড টেস্ট হয়নি, প্রশিক্ষণহীন প্রার্থীদের নিয়োগ করা হয়েছে এবং সংরক্ষণের নিয়ম মানা হয়নি। এরপর ১৫ মে হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ ওই চাকরি বাতিলের নির্দেশে স্থগিতাদেশ দেয়। সেই থেকে মামলাটি চলছে।
এই মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ১১ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। ওই দিন মামলাকারীদের আইনজীবীকে তাঁর বক্তব্য জানানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত।





