আগামী সোমবার, ৮ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে তৃতীয় সেমিস্টার বা ২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা। এবারই প্রথমবার সেমিস্টার পদ্ধতিতে পরীক্ষা হচ্ছে। এই নতুন ব্যবস্থায় পশ্চিমবঙ্গ উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ একাধিক পরিবর্তন এনেছে, যার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো বিকল্প প্রশ্নপত্র।
প্রশ্ন ফাঁস ঠেকাতে দুই সেট প্রশ্ন
এতদিন উচ্চমাধ্যমিকের জন্য প্রশ্নপত্রের মাত্র একটি সেট তৈরি করা হতো। কিন্তু এবার থেকে সেই নিয়মে বদল আনা হয়েছে। সংসদের সভাপতি চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, “এবারে প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তার বিষয়ে অনেক কড়াকড়ি থাকছে। আমরা এই প্রথম বিকল্প প্রশ্নপত্রের ব্যবস্থা রাখছি।” উচ্চশিক্ষা দফতর সূত্রে জানা গেছে, যদি প্রশ্ন ফাঁসের কোনো খবর আসে, তবে যাচাই করে দ্রুত বিকল্প প্রশ্নপত্র ব্যবহার করা হবে।
পরীক্ষার সময়সূচি ও ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা
- পরীক্ষা শুরু: ৮ সেপ্টেম্বর, সোমবার।
- পরীক্ষা শেষ: ২২ সেপ্টেম্বর।
- মোট পরীক্ষার্থী: ৬ লক্ষ ৬০ হাজার।
- ছাত্রীর সংখ্যা: ছাত্রদের চেয়ে প্রায় ৭৯,৫৮২ জন বেশি।
আগের বছরের মাধ্যমিকের তুলনায় উচ্চমাধ্যমিকের পরীক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ১ লক্ষ ৫ হাজার কমেছে, যা ১৩.৮ শতাংশ কম। এই সংখ্যক শিক্ষার্থীর কমে যাওয়া নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
পরীক্ষার নিয়মাবলী
- সময়: সকাল ১০টা থেকে ১১টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত।
- পরীক্ষা পদ্ধতি: পুরো পরীক্ষাটি ওএমআর শিটে এমসিকিউ (MCQ) ভিত্তিক হবে।
- নম্বর: প্র্যাকটিক্যাল বিষয়গুলোতে ৩৫ নম্বর এবং প্র্যাকটিক্যাল ছাড়া বিষয়গুলোতে ৪০ নম্বরের পরীক্ষা হবে।
- পাসের নম্বর: একজন শিক্ষার্থীকে পাশ করতে হলে ১০.৫ নম্বরের বেশি পেতে হবে।
- ফেল করলে কী হবে? কোনো শিক্ষার্থী তৃতীয় সেমিস্টারে ফেল করলে বা পরীক্ষায় না বসলে, সে চতুর্থ সেমিস্টারে ওই বিষয়ে পরীক্ষা দিতে পারবে। তবে মার্কশিটে তা উল্লেখ করা থাকবে।
এছাড়াও, পরীক্ষায় কোনো ইলেকট্রনিক গেজেট নিয়ে প্রবেশ করলে পুরো পরীক্ষা বাতিল করা হবে। বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া পরীক্ষার ঘর থেকে বের হওয়া বা শৌচাগার ব্যবহার করা যাবে না। পরীক্ষা কেন্দ্রে মেটাল ডিটেক্টর এবং সিসিটিভি-র কড়া নজরদারি থাকবে।
ফল প্রকাশ নিয়ে সংসদ আশাবাদী যে, অক্টোবর মাসেই তৃতীয় সেমিস্টারের ফলাফল প্রকাশ করা হবে।