ভারত ও আমেরিকার মধ্যে চলমান বাণিজ্য এবং ভূ-রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে। সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে, যা নিয়ে দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছে। তবে এমন পরিস্থিতিতেও আশার কথা শোনালেন ভারতের বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গয়াল। তিনি জানিয়েছেন, দুই দেশ দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি (BTA) নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
সম্পর্কের টানাপোড়েন: অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ
মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট সম্প্রতি ভারতের প্রতি তুলনামূলক নরম সুর দেখিয়েছেন। তিনি বলেন, “ভারত বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র এবং তাদের মূল্যবোধ আমাদের কাছাকাছি।” তবে একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন যে, ভারত রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কিনে তা পুনর্বিক্রি করে পরোক্ষভাবে ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে সহায়তা দিচ্ছে।
অন্যদিকে, প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাণিজ্য উপদেষ্টা পিটার নাভারো ভারতের কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রতি শ্রদ্ধা জানালেও বলেন, “দুর্ভাগ্যজনক যে মোদী স্বৈরশাসক পুতিন ও শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হচ্ছেন।” তার মতে, ভারতের উচিত আমেরিকা ও ইউক্রেনের পাশে দাঁড়ানো, রাশিয়ার নয়।
বাণিজ্যিক ধাক্কা ও আলোচনার ভবিষ্যৎ
আমেরিকার ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তকে ভারত “অন্যায় ও অযৌক্তিক” বলে আখ্যা দিয়েছে। এই শুল্কের প্রতিবাদে আমেরিকা তাদের প্রতিনিধিদলের ভারত সফরও স্থগিত করেছে। ফলে আগামী ২৫ আগস্ট ষষ্ঠ দফার বাণিজ্য আলোচনা হওয়ার কথা থাকলেও, তা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
এই পরিস্থিতিতে পীযূষ গয়ালের বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, বাণিজ্যিক আলোচনার দরজা এখনও খোলা রয়েছে। তবে ভূ-রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের এই অচলাবস্থায় ভারত ও আমেরিকা কি শেষ পর্যন্ত সমঝোতার পথে হাঁটতে পারবে?