রাষ্ট্ৰীয় উচ্চতর শিক্ষা অভিযান (রুসা) প্রকল্পে কেন ঢিলেমি? এই প্রশ্ন তুলে রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুকে চিঠি দিলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। একদিকে যখন রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক বঞ্চনার অভিযোগ তুলছে, অন্যদিকে তখন শিক্ষা নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে বিরোধীদের চাপে জেরবার। ঠিক এমন পরিস্থিতিতে সুকান্ত মজুমদারের এই চিঠি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
চিঠিতে কী লিখলেন সুকান্ত?
সংবাদমাধ্যমের সামনে সুকান্ত মজুমদার জানান, ‘রুসা’ প্রকল্পে কাজ ধীর গতিতে চলছে। তিনি বলেন, ‘এই প্রকল্প ২০১৩ সালে চালু হয়েছিল। তখন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অনুরোধে ২০৫টি ইউনিটের জন্য ৫৫৪.৭৩ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়। কিন্তু গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় বা মনিন্দ্রচন্দ্র কলেজের মতো বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কাজের অগ্রগতি খুবই শ্লথ।’
তিনি আরও জানান, যে সরকার নিজেদের সবচেয়ে বেশি কাজের নিরিখে এগিয়ে বলে দাবি করে, তাদের রাজ্যে কেন কেন্দ্রীয় প্রকল্পের কাজ এত ধীর গতিতে চলছে, তা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন। সুকান্ত মজুমদার ব্রাত্য বসুকে অনুরোধ করেছেন, যেন এই বিষয়গুলো বিশেষভাবে দেখা হয় এবং কাজের গতি বাড়ানো হয়।
রাজনৈতিক চাপান-উতোর
কেন্দ্রীয় অনুদান নিয়ে তৃণমূল সরকার প্রায়শই অভিযোগ করে থাকে যে, কেন্দ্র বাংলাকে বঞ্চিত করছে। এই পরিস্থিতিতে সুকান্ত মজুমদারের চিঠি তৃণমূল সরকারের অস্বস্তি বাড়িয়ে দিতে পারে। কারণ, এটি প্রমাণ করে যে, কিছু ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় অর্থ বরাদ্দ হলেও রাজ্য সেই কাজ দ্রুত শেষ করতে পারছে না।
এই চিঠি এমন এক সময়ে এলো যখন রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ এবং আইনি চাপ বাড়ছে। সুকান্ত মজুমদারের এই পদক্ষেপ রাজ্যের শিক্ষা দফতরের ওপর আরও চাপ সৃষ্টি করবে বলেই মনে করা হচ্ছে।