আলিপুর চিড়িয়াখানার জমি বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহারের জন্য কলকাতা পুরসভার টেন্ডারের ওপর স্থগিতাদেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। সোমবার হাইকোর্টের বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি স্মিতা দাস দে-র ডিভিশন বেঞ্চ এই নির্দেশ দিয়েছে। আদালত পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত পুরনিগম এই বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নিতে পারবে না।
মামলার মূল বিষয়বস্তু:
গত ২৩ জুলাই কলকাতা পুরসভা চিড়িয়াখানার একটি অংশ, প্রায় ১৬৬.৫০ কাঠা জমি, বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহারের জন্য টেন্ডার ডেকেছিল। মামলাকারী মহলয়া চট্টোপাধ্যায়ের আইনজীবী সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায় আদালতে বলেন, এই জমিটি আসলে পশ্চিমবঙ্গ বন দফতরের, কিন্তু কলকাতা পুরসভা নিজেদের বলে দাবি করে টেন্ডার ডেকেছে।
আদালতে বিভিন্ন পক্ষের যুক্তি:
- মামলাকারী পক্ষ: তাদের যুক্তি, এই জমি চিড়িয়াখানার অংশ এবং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমতি ছাড়া এখানে কোনো নির্মাণ করা যায় না। তাদের মতে, এটি চিড়িয়াখানার পরিবেশ এবং বাস্তুতন্ত্রের ক্ষতি করবে।
- রাজ্য সরকার: রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত বলেছেন, রাজ্য মন্ত্রিসভা ভেবেচিন্তেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং আদালত যেন এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করে। তিনি জানান, রাজ্য সরকার হলফনামা দিয়ে তাদের বক্তব্য আদালতে জানাবে।
- কলকাতা পুরসভা: পুরসভার আইনজীবী জানান, তারা যে জমিতে টেন্ডার ডেকেছে, সেটি ‘জোন সি’ ক্যাটাগরির, যেখানে বাণিজ্যিক কাজ করা যায়। তারা সমস্ত নিয়ম মেনেই এই প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
- হিডকো (HIDCO): তাদের আইনজীবী জানান, এই টেন্ডার শুধুমাত্র একটি শর্তসাপেক্ষে জমি হস্তান্তরের জন্য, বিক্রি করার জন্য নয়। নির্মাণ করা হলেও তার কিছু অংশ সরকারকে দিতে হবে। তিনি আরও বলেন, এই জমিটি চিড়িয়াখানার মূল অংশের বাইরে এবং এটি খুবই সামান্য অংশ।
ভবিষ্যৎ:
আদালত আপাতত এই বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এই মামলাটি আরও ভালোভাবে খতিয়ে দেখা হবে। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও এই ঘটনার বিরুদ্ধে মিছিল করেছিলেন, যা এই বিতর্কে রাজনৈতিক মাত্রা যোগ করেছে।