আধুনিক জীবনে ফ্রিজ একটি অপরিহার্য গৃহস্থালীর সরঞ্জাম। বিশেষ করে গ্রীষ্মকালে খাবার সংরক্ষণের জন্য এর গুরুত্ব অপরিসীম। তবে অনেক সময় ফ্রিজের কারণে বিদ্যুৎ বিলের পরিমাণ বেড়ে যায়, যা অনেককেই চিন্তায় ফেলে। কিছু সহজ নিয়ম মেনে চললে কিন্তু ফ্রিজের বিদ্যুৎ বিল অনেকটাই কমানো সম্ভব। অথচ এই বিষয়ে অনেকেরই সঠিক ধারণা নেই। তাই অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের বোঝা কমাতে জেনে নিন কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপস:
ফ্রিজের চারপাশে রাখুন পর্যাপ্ত জায়গা:
প্রথমত, ফ্রিজের চারপাশে পর্যাপ্ত ফাঁকা জায়গা রাখা জরুরি। ফ্রিজের উপরে বা আশেপাশে জিনিসপত্র স্তূপ করে রাখবেন না। এর ফলে ফ্রিজের ঠান্ডা করার প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। ফ্রিজ থেকে নির্গত গরম বাতাস বের হতে না পারলে খাবার ঠান্ডা করার জন্য বেশি শক্তি খরচ হয়, যা আপনার বিদ্যুৎ বিল বাড়িয়ে দেয়।
নিয়মিত কনডেন্সার পরীক্ষা করুন:
ফ্রিজের কনডেন্সার নিয়মিত পরীক্ষা করা উচিত। কনডেন্সারের কয়েলে ধুলো বা ময়লা জমলে তা সঠিকভাবে তাপ বিকিরণ করতে পারে না। এর ফলে ফ্রিজকে বেশি কাজ করতে হয় এবং বিদ্যুৎ খরচ বাড়ে। তাই বছরে ২-৩ বার ফ্রিজ বন্ধ করে এর পেছনের বা নিচের কনডেন্সার কয়েল ব্রাশ বা ভ্যাকুয়াম ক্লিনার দিয়ে পরিষ্কার করুন।
দরজা ভালোভাবে লাগান:
ফ্রিজের দরজা ঠিকমতো বন্ধ হচ্ছে কিনা তা নিশ্চিত করুন। অনেক সময় মনে হতে পারে দরজা লাগানো আছে, কিন্তু সামান্য ফাঁক থাকার কারণে ঠান্ডা বাতাস বেরিয়ে যেতে পারে। এর ফলে ফ্রিজকে তাপমাত্রা বজায় রাখতে বেশি শক্তি খরচ করতে হয় এবং খাবারও নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই দরজার গ্যাসকেট নিয়মিত পরীক্ষা করুন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী মেরামত করুন।
লবণ জল ব্যবহার করুন:
ফ্রিজের তাপমাত্রা স্থিতিশীল রাখতে এক বোতল লবণ মিশ্রিত জল রাখতে পারেন। বিদ্যুৎ চলে গেলেও এটি খাবারকে তুলনামূলকভাবে দীর্ঘ সময় ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করবে।
গরম খাবার রাখবেন না:
কখনও গরম খাবার সরাসরি ফ্রিজে রাখবেন না। গরম খাবার রাখলে ফ্রিজকে সেটি ঠান্ডা করতে অতিরিক্ত শক্তি খরচ করতে হয়। তাই যেকোনো খাবার প্রথমে ঘরের তাপমাত্রায় ঠান্ডা করুন, তারপর ফ্রিজে রাখুন।
রেগুলেটর চেক করুন:
ফ্রিজের রেগুলেটরের পাওয়ার সেটিংসের দিকে খেয়াল রাখুন। অপ্রয়োজনে খুব বেশি পাওয়ার সেট করে রাখবেন না। ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে প্রয়োজন অনুযায়ী পাওয়ার কমিয়ে রাখুন। পাওয়ার যত কম থাকবে, বিদ্যুৎ বিলও তত কম আসবে।
অপ্রয়োজনীয় জিনিস সরিয়ে ফেলুন:
ফ্রিজের ভেতরে অপ্রয়োজনীয় থালা-বাটি, বাক্স বা বোতল সরিয়ে ফেলুন। যখন দেখবেন ফ্রিজে রাখার মতো খুব বেশি জিনিস নেই, তখন ফ্রিজ বন্ধ রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ।
খালি ফ্রিজ বন্ধ রাখুন:
ফ্রিজে বেশি খালি জায়গা থাকলে তাপমাত্রা ধরে রাখার ক্ষমতা কমে যায়। তাই যদি ফ্রিজ প্রায় খালি থাকে, তবে সেটি বন্ধ রাখাই ভালো।
ঋতু অনুযায়ী তাপমাত্রা পরিবর্তন করুন:
ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে ফ্রিজের তাপমাত্রাও পরিবর্তন করা উচিত। সাধারণভাবে রেফ্রিজারেটরের তাপমাত্রা ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি এবং ডিপ ফ্রিজের তাপমাত্রা -১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি রাখা উচিত নয়।
এই সহজ টিপসগুলো মেনে চললে আপনি আপনার ফ্রিজের বিদ্যুৎ বিল উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে পারবেন এবং সাশ্রয়ী জীবনযাপন করতে পারবেন।