আপনার শিশু কি আঙুল চোষে? কীভাবে এই অভ্যাস থেকে শিশুকে মুক্তি দেবেন? মায়েরা জেনেনিন

অনেক শিশুই আঙুল চোষার অভ্যাসের শিকার হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুরা বিক্ষুব্ধ বা উত্তেজিত হলে শান্ত হওয়ার জন্য এবং একঘেয়েমি লাগলে নিজেদের উদ্দীপ্ত করার জন্য এমনটা করে থাকে। তবে কখন এই অভ্যাস শিশুর জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে, তা জানা জরুরি।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের আঙুল চোষার অভ্যাস সাধারণত উপেক্ষা করা উচিত। যদি শিশু মাঝেমধ্যে আঙুল চোষে এবং এর ফলে তার দাঁত বা আঙুলের কোনো ক্ষতি না হয়, তবে চিন্তার কোনো কারণ নেই। তবে পাঁচ বছর পেরোনোর পরেও যদি শিশু প্রবলভাবে আঙুল চুষতে থাকে, তাহলে দাঁত এবড়োখেবড়ো হওয়া সহ একাধিক সমস্যা দেখা দিতে পারে।

কেন শিশুরা আঙুল চোষে?

ক্ষিদে পেলে: অনেক সময় শিশুরা ক্ষিদে পেলে কাঁদে না, বরং আঙুল চোষে। তারা হয়তো বুঝতে পারে না যে মায়ের স্তনেই দুধ থাকে। তাই দুধ পাওয়ার আশায় আঙুল চোষার চেষ্টা করে। এটি তাদের ক্ষুধার্ত থাকার সংকেতও হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ান এবং দেখুন সে ঘুমিয়ে পড়লে আঙুল চোষা বন্ধ করে কিনা।

নিরাপত্তার অভাব: ঘুমের সময় শিশুরা নিজেদের নিরাপদ ও সুরক্ষিত বোধ করতে চায়। ক্লান্তির কারণে ঘুমাতে অসুবিধা হলে অনেক সময় তারা আঙুল চুষে নিজেদের শান্ত করে। এমন শিশুদের ঘুমের সময় মায়ের পাশে থাকা জরুরি। নিরাপদ বোধ করলে তারা ধীরে ধীরে এই অভ্যাস ত্যাগ করবে।

একঘেয়েমি: অলস বসে থাকা শিশুরাও আঙুল চুষতে পারে। এক্ষেত্রে তাদের হাতে খেলনা দিন। হাতের কাছে খেলনা থাকলে শিশু সেটাই ধরতে চাইবে এবং মুখ থেকে আঙুল সরিয়ে নেবে।

কীভাবে এই অভ্যাস থেকে শিশুকে মুক্তি দেবেন?

বোঝানো: একটু বড় হলে সন্তানকে আঙুল চোষার কুফল সম্পর্কে বুঝিয়ে বলুন। দাঁতের সমস্যা সহ অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকির কথা তাদের সহজ ভাষায় জানান। নিজে বুঝতে পারলে হয়তো তারা নিজেরাই এই অভ্যাস থেকে বেরিয়ে আসবে।

অন্য কাজে ব্যস্ত রাখা: যখন শিশু আঙুল চোষে, তখন তাকে ছবি আঁকা বা অন্য কোনো হাতের কাজে ব্যস্ত রাখার চেষ্টা করুন। অলস বসে থাকলে তাদের মধ্যে আঙুল চোষার প্রবণতা বাড়ে।

ইতিবাচক reinforcement: যখন শিশু আঙুল চোষা বন্ধ করে, তখন তার প্রশংসা করুন এবং তাকে উৎসাহিত করুন।

কখন ডাক্তারের পরামর্শ নেবেন?

যদি পাঁচ বছর পেরোনোর পরেও আপনার সন্তানের প্রবলভাবে আঙুল চোষার অভ্যাস থাকে এবং এর ফলে দাঁতের গঠন বা মুখের অন্যান্য অংশে কোনো অস্বাভাবিকতা দেখা দেয়, তাহলে অবশ্যই একজন শিশু বিশেষজ্ঞ বা দন্ত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

মনে রাখবেন, শিশুকে বকাঝকা বা জোর করে আঙুল চোষা বন্ধ করার চেষ্টা করলে হিতে বিপরীত হতে পারে। ধৈর্য ধরে এবং সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করে তাদের এই অভ্যাস থেকে মুক্তি দিতে সাহায্য করুন।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy