স্কুল সার্ভিস কমিশন (SSC) নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষক পদে ‘দাগি’ প্রার্থীদের যে তালিকা প্রকাশ করেছে, তা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে। শাসক দল তৃণমূল এবং বিরোধী দল বিজেপি একে অপরের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে।
বিজেপির অভিযোগ, তৃণমূলের পাল্টা জবাব
বিজেপি রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে সরাসরি আঙুল তুলে দাবি করেছে যে, এই তালিকা রাজ্যের দুর্নীতি প্রমাণ করে। বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেছেন, “সরকার এই তালিকা প্রকাশ করে স্বীকার করল যে তারা চুরি করেছে। তৃণমূলের বহু নেতা যে এই দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত, তা এই তালিকা থেকেই স্পষ্ট। সরকারের উচিত প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া।” বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ, ৯০% চাকরি টাকার বিনিময়ে এবং ১০% তৃণমূল নেতাদের সুপারিশে দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, তৃণমূল এই তালিকাকেই পাল্টা হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে। তারা বলছে, প্রকাশিত ১৮০৬ জনের তালিকায় প্রায় ২০০ জনই পূর্ব মেদিনীপুরের, যা শুভেন্দু অধিকারীর খাসতালুক। তৃণমূলের অভিযোগ, যখন এই দুর্নীতি হয়েছে, তখন শুভেন্দু তৃণমূলে ছিলেন এবং তিনিই ছিলেন পূর্ব মেদিনীপুরের নেতা। তাই এই দুর্নীতির দায় তারও।
তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় নাম না করে শুভেন্দুকে আক্রমণ করে বলেন, “এসএসসি-র তালিকা দেখলেই বোঝা যাবে বিজেপির কত লোক এর সঙ্গে যুক্ত। পূর্ব মেদিনীপুরে কী হয়েছিল, বিজেপি নেতাদের তার ব্যাখ্যা দেওয়া উচিত।”
শুভেন্দু অধিকারী অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “আমার কোনো আত্মীয়ের নাম এই তালিকায় নেই। যারা আমার সঙ্গে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে এসেছেন, তাদেরও কারও এই দুর্নীতির সঙ্গে কোনো যোগ নেই।”
তৃণমূল নেতাদের পরিবারের নাম তালিকায়
এসএসসি-র এই তালিকায় পানিহাটির বিধায়ক নির্মল ঘোষের পুত্রবধূর নাম উঠে এসেছে, যা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক চলছে। এছাড়াও রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের বেশ কয়েকজন তৃণমূল নেতার আত্মীয়-স্বজনের নামও তালিকায় রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই বিষয়টি নিয়ে বিধানসভার বিশেষ অধিবেশনে বিজেপি হট্টগোল করতে পারে বলে জানা গেছে। নির্মল ঘোষ অবশ্য এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
বিরোধীদের এক সুর
কেবল বিজেপি নয়, সিপিএম এবং কংগ্রেসও একই সুরে তৃণমূলকে আক্রমণ করেছে। সিপিএম নেতা বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন, “দাগিদের তালিকায় অধিকাংশই তৃণমূলের লোক। কে কত টাকা দিয়ে চাকরি পেয়েছে, তা নির্ভর করছে সেই ব্যক্তি তৃণমূলের কোন নেতার কতটা ঘনিষ্ঠ তার ওপর।” কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী বলেন, “তৃণমূলের দুর্নীতির হাঁড়ি এখন হাটে ভেঙে গেছে। সরকারের উচিত এখনই দোষ স্বীকার করে আদালতের কাছে ক্ষমা চাওয়া।”
তৃণমূল মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী অবশ্য এসব অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, “যে বিজেপি ত্রিপুরা এবং মধ্যপ্রদেশে নিয়োগ দুর্নীতি করেছে, তাদের মুখে বড় বড় কথা মানায় না।”