সন্তান কেমন হবে, তা অনেকটাই পিতামাতার ওপর নির্ভর করে। আদর্শ মানুষ হিসেবে তাকে গড়ে তুলতে যেমন সঠিক শিক্ষা ও মূল্যবোধ শেখানো প্রয়োজন, তেমনি তার আচার-আচরণ ও অভ্যাসও পিতামাতার দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত।
আপনার সন্তান সঠিকভাবে বেড়ে উঠছে কি না, তা বোঝার জন্য তার আচরণ পর্যবেক্ষণ করা জরুরি। কিছু বিশেষ লক্ষণ দেখলেই সতর্ক হওয়া উচিত।
১. রাগ ও বদমেজাজি স্বভাব
অনেক শিশু যে কোনো বিষয়ে চিৎকার-চেঁচামেচি করে। এমনকি পাবলিক স্পেসেও তারা অযথা চেঁচিয়ে ফেলে।
🔹 সবকিছুতে অতিরিক্ত জেদ ধরা
🔹 ছোটখাটো কারণে চেঁচামেচি করা
🔹 সহজেই মেজাজ হারানো
➡️ এই লক্ষণগুলো দেখলেই সাবধান হন, কারণ এটি অস্থির ও অধৈর্য মনোভাবের ইঙ্গিত দেয়।
২. সন্তুষ্ট না হওয়া
আপনি যতই তার চাহিদা পূরণ করেন, তবু সে নতুন নতুন দাবি নিয়ে আসে?
🔹 সবকিছুতেই অসন্তুষ্ট থাকে
🔹 কোনো কিছুতেই সন্তুষ্ট হয় না
🔹 ধৈর্য ধরতে শেখে না
➡️ এটি সন্তানের মধ্যে অতিরিক্ত চাহিদার মানসিকতা তৈরি করে, যা পরবর্তীতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
৩. পিতামাতার কাজকে নিয়ন্ত্রণ করার প্রবণতা
অনেক শিশু পিতামাতার কাজকর্মে হস্তক্ষেপ করে বা অফিসের সময়ও বারবার বিরক্ত করে।
🔹 করোনার সময় দেখা গেছে, অনেকে বাবা-মায়ের অফিসের কাজে বাধা দিয়েছে
🔹 নিজের ইচ্ছামতো আপনাকে পরিচালনা করতে চায়
🔹 নিয়ম মানতে চায় না
➡️ এটি আত্মকেন্দ্রিকতার লক্ষণ হতে পারে, যা ভবিষ্যতে খারাপ প্রভাব ফেলবে।
৪. শেয়ার করতে না চাওয়া
আপনার সন্তান কোনো কিছু কারো সঙ্গে ভাগ করতে চায় না?
🔹 খেলনা অন্য কাউকে দিতে চায় না
🔹 বন্ধুদের সঙ্গে কোনো কিছু শেয়ার করতে চায় না
🔹 সবকিছু শুধু নিজের জন্য রাখতে চায়
➡️ এটি আত্মকেন্দ্রিক মানসিকতার লক্ষণ, যা সামাজিক দক্ষতা গঠনে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
৫. কথা না শোনা ও অবাধ্যতা
আপনি কিছু বলছেন, কিন্তু সন্তান তা মানছে না?
🔹 একই কথা বারবার বলার পরও সে শুনছে না
🔹 নিজের সিদ্ধান্তকে সবার ওপরে রাখছে
🔹 অভিভাবকদের কথা অগ্রাহ্য করছে
➡️ এই স্বভাব থাকলে দ্রুত সতর্ক হোন, কারণ এটি ভবিষ্যতে শৃঙ্খলাহীনতার দিকে নিয়ে যেতে পারে।
৬. ঘুষ গ্রহণের প্রবণতা
শুনতে খারাপ লাগলেও অনেক শিশুই এভাবে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে।
🔹 আপনার কথা শোনাতে হলে তাকে কিছু উপহার দিতে হয়
🔹 সবসময় বিনিময়ের মাধ্যমে কাজ করানো লাগে
🔹 পুরষ্কার ছাড়া কোনো নির্দেশ মানতে চায় না
➡️ এটি দীর্ঘমেয়াদে শিশুকে অনৈতিক আচরণের দিকে নিয়ে যেতে পারে। তাই এখনই প্রতিরোধ করুন।
৭. চাহিদা পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কথা না শোনা
আপনার সন্তান কি শুধু তার চাহিদা পূরণ হলেই আপনার কথা শোনে?
🔹 নিজের স্বার্থ ছাড়া অন্য কিছুতে আগ্রহ দেখায় না
🔹 আপনার আবদার বা প্রয়োজনকে গুরুত্ব দেয় না
🔹 স্বার্থসিদ্ধির জন্য কৌশল অবলম্বন করে
➡️ এটি একপ্রকার প্রতারণার আচরণ, যা ভবিষ্যতে বড় সমস্যার কারণ হতে পারে।
💡 কী করবেন?
✅ শিশুর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি করুন।
✅ শিশুকে নিয়ম ও শৃঙ্খলা শেখান, কিন্তু জোরজবরদস্তি নয়।
✅ তাকে সহমর্মিতা ও শেয়ার করার অভ্যাস গড়ে তুলতে সাহায্য করুন।
✅ তার চাহিদার প্রতি সংবেদনশীল হন, কিন্তু অযথা প্রশ্রয় দেবেন না।
✅ শুধু পুরষ্কারের মাধ্যমে শাসন করবেন না, বরং নৈতিক শিক্ষা দিন।
সন্তানের ভবিষ্যৎ গঠনে পিতামাতার ভূমিকাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাই ছোট থেকেই সঠিক অভ্যাস ও মূল্যবোধ গড়ে তুলুন, যাতে সে সুস্থ ও পরিপূর্ণ ব্যক্তিত্বের অধিকারী হয়ে উঠতে পারে। 😊