আবারও রাশিয়া এবং ইউক্রেনের মধ্যেকার যুদ্ধ নতুন করে ভয়ংকর রূপ নিয়েছে। গত কয়েক দিন ধরে রাশিয়া ইউক্রেনের ওপর একের পর এক হামলা চালাচ্ছে। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শনিবার তারা প্রায় ২০টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ধ্বংস করেছে। এর মধ্যে ১৮টি ড্রোনই ছিল মস্কো-নিয়ন্ত্রিত ক্রিমিয়া অঞ্চলে। সম্প্রতি ইউক্রেনের প্রায় ১৪টি অঞ্চলে রাশিয়া ৫০০টিরও বেশি ড্রোন এবং ৪৫টি ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়েছে।
ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কিছু আক্রমণ ঠেকাতে পারলেও, কিছু ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যভেদ করতে সক্ষম হয়। এর ফলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় হাজার হাজার পরিবার অন্ধকারে ডুবে গেছে। বহু মানুষ আহতও হয়েছে। শুধু জাপোরিঝিয়া শহরেই প্রায় ২,৫০০ বাড়িতে বিদ্যুৎ ছিল না। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, এই হামলায় অন্তত তিনজন মারা গেছেন এবং ৪০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন শিশুও রয়েছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে জাপোরিঝিয়া, লুটস্ক এবং ডিনিপ্রো শহরে। সেখানে বিদ্যুৎকেন্দ্র, বিভিন্ন বাড়ি এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইউক্রেনের পাল্টা জবাব
রাশিয়া হামলা চালানোর পর ইউক্রেনও ছেড়ে কথা বলেনি। ইউক্রেনীয় সেনারা পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে রাশিয়ার ক্রাসনোদার ও সিজরান অঞ্চলের তেল শোধনাগারে ড্রোন হামলা করেছে। ইউক্রেনের সামরিক গোয়েন্দারা দাবি করেছেন, ওইসব শোধনাগারে আগুন ধরে গেছে।
জেলেনস্কির প্রতিক্রিয়া ও প্রাক্তন স্পিকারের মৃত্যু
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি অভিযোগ করেছেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যুদ্ধ নিয়ে বৈঠক হওয়ার ঠিক আগেই রাশিয়া ইচ্ছাকৃতভাবে এই হামলা চালিয়েছে। তিনি আন্তর্জাতিক মহলের কাছে রাশিয়ার ওপর আরও কঠোর জ্বালানি ও ব্যাংকিং নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবি জানিয়েছেন।
এই উত্তেজনার মধ্যেই ইউক্রেনে একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। ইউক্রেনের প্রাক্তন পার্লামেন্ট স্পিকার আন্দ্রি পারুবি খুন হয়েছেন। প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি এই ঘটনাকে ‘ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড’ বলে বর্ণনা করে নিহত স্পিকারের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। হত্যাকারীকে খুঁজে বের করার জন্য ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে।