আর মাত্র কয়েকটা দিন, তারপরেই শুরু হচ্ছে গণেশ চতুর্থী। এই উৎসব এখন শুধু পশ্চিম ভারতের নয়, গোটা দেশেই পালিত হয়। বাঙালিরাও এই উৎসবে মেতে ওঠেন। অনেকেই ঘরে গণেশ মূর্তি স্থাপন করেন এবং নিজের হাতে তার প্রিয় প্রসাদ মোদক বানান। তবে, গণেশ পুজোয় কিছু নিয়ম মেনে চললে সিদ্ধিদাতার আশীর্বাদ সারা বছর আপনার ওপর থাকবে।
গণেশ পুজোর কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম
- প্রিয় প্রসাদ: গণপতিকে খুশি করতে তার প্রিয় মোদক, লাড্ডু এবং নারকেলের মিষ্টি অবশ্যই পুজোর থালায় রাখবেন।
- সঠিক জিনিস ব্যবহার: গণেশের বিগ্রহে দূর্বা ঘাস এবং লাল জবা ফুলের মালা পরাবেন। দূর্বা গণেশের খুব প্রিয়। এছাড়া, পুজোতে সুপারি, পান, পঞ্চামৃত, সিঁদুর, ধূপ এবং প্রদীপ ব্যবহার করবেন।
- মূর্তি স্থাপন: গণেশের মূর্তি রাখার জন্য একটি কাঠের আসনে লাল কাপড় বিছিয়ে দেবেন। মূর্তি স্থাপনের জন্য উত্তর, পূর্ব বা উত্তর-পূর্ব দিক সবচেয়ে শুভ।
- মন্ত্র পাঠ: পুজো করার সময় ‘ওঁ শ্রী গণেশায় নমঃ’ মন্ত্রটি জপ করতে পারেন।
যে কাজগুলো করা যাবে না
- চাঁদ দেখা: গণেশ চতুর্থীর দিনে চাঁদ দেখা উচিত নয়। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, চাঁদ গণেশকে দেখে হেসেছিল বলে তিনি তাকে অভিশাপ দেন, যে কেউ এই দিনে চাঁদ দেখলে তার জীবনে বিপদ আসবে।
- তুলসী ব্যবহার: গণেশ পুজোয় তুলসী ব্যবহার করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। একটি পৌরাণিক গল্প অনুযায়ী, তুলসী গণেশকে বিয়ে করতে চাইলে তিনি রাজি হননি। এর ফলে তুলসী তাকে অভিশাপ দেন যে তার দুটি বিয়ে হবে।
- ভাঙা মূর্তি: পুজোয় ব্যবহৃত মূর্তি বা প্রতিমা যেন কোনোভাবেই ভাঙা না থাকে, কারণ এতে পূজায় সফলতা আসে না।
- কালো পোশাক: অনেকে বিশ্বাস করেন যে কালো রং শোকের প্রতীক, তাই গণেশ পুজোয় কালো পোশাক পরা উচিত নয়।
- মোদক: প্রসাদে মোদক সবসময় নিরামিষ হতে হবে।
এই নিয়মগুলো মেনে চললে আপনার জীবনে সুখ, শান্তি এবং সমৃদ্ধি আসবে বলে বিশ্বাস করা হয়।