“‘অযোগ্যরা’ পরীক্ষায় বসতে পারবেন না”-মামলাকারীর আবেদন খারিজ সুপ্রিম কোর্টের

আগামী ৭ এবং ১৪ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হতে চলা স্কুল সার্ভিস কমিশনের (এসএসসি) নিয়োগ পরীক্ষায় ‘টেন্টেড’ বা ‘অযোগ্য’ হিসেবে চিহ্নিত প্রার্থীরা বসতে পারবেন না বলে আবারও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি সঞ্জয় কুমার এবং বিচারপতি অরবিন্দ কুমারের ডিভিশন বেঞ্চ এই রায় দিয়েছে।

২০১৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার চাকরিপ্রার্থী সোনালি দাস একটি আবেদন করেছিলেন, যেখানে তিনি দাবি করেন যে তাকে ভুলভাবে ‘টেন্টেড’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যদিও তার নম্বর কাট অফ মার্কসের সমান ছিল। তার আইনজীবী শুভাশিস ভৌমিক এই যুক্তিতে সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ চেয়েছিলেন।

তবে, সুপ্রিম কোর্ট জানায় যে কারা ‘টেন্টেড’ এবং কারা নয়, সেই বিষয়টি কলকাতা হাইকোর্টকেই বিবেচনা করতে হবে। তাই, এই বিষয়ে কোনো অন্তর্বর্তীকালীন রায়ের জন্য আবেদনকারীকে হাইকোর্টে যেতে হবে।

নতুন করে আইনি জটিলতা?

সোনালির আইনজীবীর যুক্তি, তার মক্কেলকে কখনো সিবিআই জিজ্ঞাসাবাদ করেনি বা কোনো নোটিস পাঠায়নি। শুধুমাত্র ওএমআর মিসম্যাচের কারণে তাকে ‘টেন্টেড’ তালিকায় রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তি দোষী প্রমাণিত হওয়ার আগেই তাকে শাস্তি দেওয়াটা ‘প্রিন্সিপল অফ ন্যাচারাল জাস্টিস’-এর পরিপন্থী।

আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, সোনালির মতো আরও অনেক প্রার্থী এই যুক্তিতে হাইকোর্ট বা সুপ্রিম কোর্টে নতুন করে আবেদন জানাতে পারেন। এতে আগামী পরীক্ষার আগে নতুন করে আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে।

‘টেন্টেড’ কারা?

গত ৩ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্ট তার মূল রায়ে মোট ৬,২৭৬ জন প্রার্থীকে ‘টেন্টেড’ হিসেবে চিহ্নিত করেছিল। এর মধ্যে ৪,০৯১ জন ওএমআর মিসম্যাচ, ১,৪৯৮ জন প্যানেলের বাইরে থেকে নিয়োগপ্রাপ্ত এবং ৯২৬ জনের বিরুদ্ধে র‍্যাঙ্ক জাম্পের অভিযোগ ছিল। সিবিআইয়ের দেওয়া এই রিপোর্টের ওপর এসএসসি-ও সম্মতি জানিয়েছিল।

তবে, কিছু আইন বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, ২০১৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় একটি ভুল প্রশ্নের জন্য কিছু প্রার্থীকে বাড়তি নম্বর দেওয়া হয়েছিল, যা সিবিআইয়ের রিপোর্টে বাদ পড়েছে। এই ধরনের প্রার্থীরা ‘টেন্টেড’ নন বলে দাবি করে আবার আদালতে আবেদন করতে পারেন।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy