ভারতে স্থূলতা নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রের নজর, আসছে নতুন গাইডলাইন

দেশের ক্রমবর্ধমান স্থূলতার (Obesity) সমস্যা মোকাবিলায় এবার কড়া পদক্ষেপ নিচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার। প্রথমবারের মতো স্থূলতা সংক্রান্ত একটি জাতীয় গাইডলাইন তৈরি করা হচ্ছে। ভারতের জনসংখ্যার একটি বড় অংশ এখন অতিরিক্ত ওজনের সমস্যায় ভুগছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি বড় বিপদ হিসেবে দেখা দিয়েছে।

ইন্ডিয়া টুডে-কে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ICMR-এর দীর্ঘ গবেষণার পর দেখা গেছে যে, স্থূলতা নিয়ন্ত্রণে আনতে একটি সুনির্দিষ্ট নীতি বা গাইডলাইন জরুরি। গত কয়েক বছরে ভারতে, বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে স্থূলতা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। এর ফলে অল্প বয়সেই নানা ধরনের রোগ, যেমন ডায়াবেটিস, শরীরে বাসা বাঁধছে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে এই বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনার কথা বলেছিলেন।

নতুন গাইডলাইন তৈরির জন্য সম্প্রতি ICMR-এর ডিরেক্টর জেনারেল, স্বাস্থ্যমন্ত্রকের উচ্চপদস্থ আধিকারিক, পুষ্টিবিদ, চিকিৎসক এবং বিশেষজ্ঞেরা একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে মিলিত হন।

এখন পর্যন্ত ভারতের চিকিৎসকেরা সাধারণত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-এর নির্দেশিকা মেনে চলেন। কিন্তু নতুন এই গাইডলাইনটি ভারতের নিজস্ব খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনযাত্রার ধরন মাথায় রেখে তৈরি করা হচ্ছে।

সূত্র অনুযায়ী, নতুন গাইডলাইনে শুধু স্থূলতার চিকিৎসা নয়, বরং এর প্রতিরোধ, প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্তকরণ এবং স্ক্রিনিং-এর ওপরও জোর দেওয়া হবে। এতে ওজন কমানোর জন্য ব্যবহৃত নতুন ওষুধগুলোর ব্যবহার এবং বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে সেগুলো গ্রহণের বিষয়েও উল্লেখ থাকবে। এই ওষুধগুলো ক্ষুধা কমিয়ে হজম প্রক্রিয়া ধীর করে দেয়, যা ওজন কমাতে সাহায্য করে।

এছাড়াও, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ নিউট্রিশন (NIN)-এর প্রকাশিত একটি গাইডলাইন অনুযায়ী, শরীরের নিচের অংশের মেদ কমাতে স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রা, নুন খাওয়া নিয়ন্ত্রণ, এবং অতিরিক্ত চিনি ও প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ভারতের স্থূলতার চিত্রটি বেশ ভয়াবহ। বর্তমানে প্রতি চারজন ভারতীয়ের মধ্যে একজন এই সমস্যার শিকার। এই সমস্যা এখন শুধু শহর নয়, গ্রাম অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়েছে। গত এক দশকে ভারতে স্থূলতার হার তিনগুণ বেড়েছে। পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে স্থূলতার হার ২.১ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩.৪ শতাংশ হয়েছে।

এছাড়াও, কিছু গবেষণা বলছে, অনেক ভারতীয় মহিলার বিএমআই (BMI) স্বাভাবিক থাকলেও তাদের পেটে মেদ বা ‘ভুঁড়ি’ থাকে। এই ধরনের স্থূলতার হার দক্ষিণ ভারতের কেরল ও তামিলনাড়ুতে এবং উত্তর ভারতের পাঞ্জাব ও দিল্লিতে সবচেয়ে বেশি। অন্যদিকে ঝাড়খণ্ড ও মধ্যপ্রদেশে এই হার তুলনামূলকভাবে কম।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy