মিড ডে মিল এবং স্কুলের অন্যান্য খাতে বরাদ্দ কয়েক লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বাঁকুড়ার গঙ্গাজলঘাঁটি ব্লকের লছমনপুর পরমহংস যোগানন্দ বিদ্যাপীঠের প্রধান শিক্ষক চন্দ্র পন্ডার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে। স্কুল পরিচালন কমিটি গঠন না করার সুযোগ নিয়ে তিনি এই দুর্নীতি করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিভাবকদের অভিযোগ অনুযায়ী, শিক্ষা দপ্তর বারবার নির্দেশ দেওয়া সত্ত্বেও প্রধান শিক্ষক ইচ্ছাকৃতভাবে বিদ্যালয় পরিচালন কমিটি গঠন করেননি। এর ফলে তিনি নিজের ইচ্ছেমতো স্কুলের টাকা খরচ করতে পেরেছেন। অভিযোগ উঠেছে যে, মিড ডে মিলের টাকা ছাড়াও সর্বশিক্ষা অভিযান এবং স্কুল চত্বরের গাছ বিক্রি করে পাওয়া টাকাও তিনি আত্মসাৎ করেছেন।
অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক চন্দ্র পন্ডা অবশ্য টাকা আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি স্বীকার করেছেন যে, ছাত্রদের উপস্থিতির সংখ্যা বেশি দেখিয়ে মিড ডে মিলের কিছু টাকা উদ্বৃত্ত হয়েছে। তবে তার দাবি, ওই টাকা স্কুলের সরস্বতী পুজো এবং অন্যান্য অনুষ্ঠানে খাবারের খরচ বাবদ ব্যবহার করা হয়েছে।
বিদ্যালয় পরিচালন কমিটি গঠন না করার বিষয়ে প্রধান শিক্ষক বলেন, স্থানীয় তৃণমূল নেতার নির্দেশের কারণেই তিনি কমিটি গঠন করতে পারেননি। এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলেও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
স্কুল শিক্ষা দপ্তরের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, ছাত্র-ছাত্রীদের উপস্থিতি বেশি দেখানো এবং মিড ডে মিলের উদ্বৃত্ত টাকা অন্য খাতে ব্যবহার করা দুটিই বেআইনি কাজ। তারা প্রধান শিক্ষককে দ্রুত সমস্ত খরচের হিসাব দিতে বলেছেন। যদি তিনি হিসাব দিতে ব্যর্থ হন, তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন এবং শিক্ষা দপ্তরের পক্ষ থেকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।