লোকসভায় তৃণমূলের মুখ্য সচেতকের পদ থেকে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ইস্তফা এবং তার পরবর্তীকালে মহুয়া মৈত্রকে নিশানা করে একের পর এক মন্তব্য দলের অভ্যন্তরের গভীর দ্বন্দ্বকে প্রকাশ্যে এনেছে। সোমবার ইস্তফার পর মঙ্গলবার ফের কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুরনো ভিডিও পোস্ট করে মহুয়ার বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেওয়া ঘটনা তৃণমূলের অস্বস্তি আরও বাড়িয়েছে।
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় যে ভিডিওটি পোস্ট করেছেন, সেটি ২০২৩ সালের লোকসভার অধিবেশনের। সেই সময় ঘুষের বিনিময়ে প্রশ্নকাণ্ডে মহুয়া মৈত্র যখন বিরোধীদের আক্রমণের শিকার হয়েছিলেন, তখন কল্যাণ তাকে সমর্থন করেছিলেন। বর্তমানে সেই ভিডিওটি পোস্ট করে কল্যাণ লিখেছেন, মহুয়া সেই সাহায্যের প্রতিদান তাকে নারীবিদ্বেষী বলে দিচ্ছেন। তিনি এমন একজনের জন্য সংসদে কথা বলার জন্য দেশবাসীর কাছে ক্ষমাও চেয়েছেন।
দীর্ঘদিন ধরেই কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও মহুয়া মৈত্রের মধ্যে সম্পর্ক ভালো নয়। মহুয়া এর আগে কল্যাণকে নারীবিদ্বেষী বলে আক্রমণ করেছেন। পাল্টা জবাবে কল্যাণও মহুয়ার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ এনেছেন, যার মধ্যে অন্যতম হলো সংসদে প্রশ্ন করার বিনিময়ে ঘুষ নেওয়া এবং লগইন-পাসওয়ার্ডের সুরক্ষা সংক্রান্ত বিষয়।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই লাগাতার আক্রমণ আসলে দলের নেতৃত্বের কাছে মহুয়ার ভাবমূর্তি নষ্ট করার একটি কৌশল হতে পারে। অন্যদিকে, মহুয়া মৈত্রের জনপ্রিয়তা এবং দলের একাংশের সমর্থন থাকায় এই দ্বন্দ্ব সহজে মিটমাট হওয়ার সম্ভাবনা কম। লোকসভা নির্বাচনের আগে দলের এই প্রকাশ্য বিবাদ তৃণমূলের জন্য একটি বড় উদ্বেগের কারণ হতে পারে।





