সাম্প্রতিক এক সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি টুইটকে কেন্দ্র করে তীব্র আক্রমণ শানালেন বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তাঁর বিস্ফোরক মন্তব্য ছিল, “মুখ্যমন্ত্রী যেই নাটকটা করছিলেন সেটা ভেস্তে দিয়েছে দিল্লি পুলিশ।” একইসঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) পক্ষ থেকে FIR (ফার্স্ট ইনফরমেশন রিপোর্ট) দায়ের করা হয়েছে এবং মুখ্যমন্ত্রীকে ক্ষমা চাইতেই হবে।
গত কয়েকদিন ধরেই ভিন্ রাজ্যে কর্মরত বাংলাভাষী শ্রমিকদের ‘বাংলাদেশি’ তকমা দিয়ে হেনস্থার অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। এই ইস্যুতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেও সরব হয়েছেন এবং একটি টুইটের মাধ্যমে তাঁর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। কিন্তু অগ্নিমিত্রা পাল এই সমগ্র ঘটনাকে ‘নাটক’ বলে অভিহিত করেছেন এবং দিল্লি পুলিশের পদক্ষেপকে সমর্থন করেছেন।
দিল্লি পুলিশকে সাধুবাদ, মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ:
সাংবাদিক সম্মেলনে অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী বাংলার শ্রমিকদের নিয়ে যে নাটক করছিলেন, দিল্লি পুলিশ সেই নাটক ভেস্তে দিয়েছে। এর জন্য দিল্লি পুলিশকে ধন্যবাদ জানাই।” তিনি অভিযোগ করেন, মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন এবং এর মাধ্যমে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা করছেন।
অগ্নিমিত্রা আরও দাবি করেন, “আমরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে FIR করেছি।” যদিও তিনি FIR-এর নির্দিষ্ট ধারা বা বিশদ তথ্য জানাননি, তবে তাঁর এই মন্তব্য রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। তাঁর দাবি, মুখ্যমন্ত্রীকে তাঁর মন্তব্যের জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে।
রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে:
তৃণমূল কংগ্রেসের ‘বাঙালি অস্মিতা’ রক্ষার আন্দোলনকে বিজেপি শুরু থেকেই রাজনৈতিক চাল হিসেবে দেখছে। অগ্নিমিত্রা পালের আজকের মন্তব্য সেই অবস্থানকেই আরও স্পষ্ট করল। বিজেপির অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এই ইস্যুটিকে ব্যবহার করছেন এবং এর মাধ্যমে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন।
অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস বরাবরই দাবি করেছে যে, ভিন্ রাজ্যে বাংলার শ্রমিকরা হেনস্থার শিকার হচ্ছেন এবং এটি বাঙালি সংস্কৃতি ও পরিচয়ের উপর আঘাত। এই নিয়ে রাজপথে নেমে প্রতিবাদও করেছে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব।
অগ্নিমিত্রা পালের এই বিস্ফোরক মন্তব্যের পর তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে কী প্রতিক্রিয়া আসে, এবং এই FIR-এর বিষয়টি কতদূর গড়ায়, এখন সেটাই দেখার বিষয়। আসন্ন সময়ে এই ইস্যুটি নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে চাপানউতোর আরও বাড়বে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।





