হাতি তাড়াতে কৃষকদের নতুন কৌশল! সুপারি বাগানে হচ্ছে এই ফলের চাষ, দ্বিগুণ লাভের হাতছানি

হাতির লাগাতার হানায় বিপর্যস্ত আলিপুরদুয়ারের কালচিনি এলাকার সুপারি চাষিদের জন্য নতুন এক সমাধান নিয়ে এসেছে কৃষি দফতর। হাতি তাড়ানোর পাশাপাশি অতিরিক্ত লাভের আশায় এবার সুপারি গাছের ফাঁকে ফাঁকে রোপণ করা হচ্ছে কাঁটাযুক্ত কমলার গাছ। এই অভিনব পদ্ধতি একদিকে যেমন কৃষকদের ফসল রক্ষা করবে, তেমনই অন্যদিকে কমলা চাষের মাধ্যমে আয়ের নতুন পথ খুলে দেবে।

দীর্ঘদিন ধরে কালচিনি ব্লকের বিভিন্ন সুপারি বাগান হাতির আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এর মধ্যে পূর্ব সাতালির কৃষক সুখলাল ওঁরাও বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। গত এক মাসের মধ্যে তাঁর সুপারি বাগানে পাঁচবার হামলা চালিয়েছে হাতি, যার ফলে তাঁর ফসল ব্যাপকভাবে নষ্ট হয়েছে। এই খবর কালচিনি ব্লক কৃষি দফতরে পৌঁছানোর পর, তারা দ্রুত সুখলাল ওঁরাওয়ের পাশে দাঁড়ায়।

আলিপুরদুয়ারের উদ্যান-পালন বিভাগ এবং কৃষি দফতরের যৌথ সহায়তায় সুখলাল ওঁরাওকে প্রায় ৬০টি কমলালেবুর চারা প্রদান করা হয়েছে। কালচিনি কৃষি সহ অধিকর্তা প্রবোধ মন্ডল নিজে এই চারা কৃষকের হাতে তুলে দেন। কৃষি দফতর সূত্রে জানানো হয়েছে, কমলা গাছে কাঁটা থাকায় হাতি এই গাছকে ভয় পায় এবং সুপারি বাগানের ধারেকাছে ঘেঁষতে সাহস করবে না। এর ফলে সুপারি বাগান সুরক্ষিত থাকবে। পাশাপাশি, এই কমলা গাছকে ‘ঢাল’ হিসেবে ব্যবহার করে কৃষকরা সুপারি সহ অন্যান্য চাষও নির্বিঘ্নে করতে পারবেন বলে দাবি কৃষি দফতরের।

প্রবোধ কুমার মন্ডল জানান, “বক্সা পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত এই এলাকার মাটি কমলালেবু চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। কমলা গাছ দেখলে হাতি এই এলাকায় আসবে না। যার ফলে সুপারি বাঁচবে এবং কৃষক কমলালেবু ফলিয়ে অতিরিক্ত আয়ও করতে পারবেন।” কালচিনি ব্লক কৃষি দফতরের পক্ষ থেকে অন্যান্য কৃষকদেরও জানানো হয়েছে, যারা তাদের সুপারি বাগানে কমলালেবু চাষ করতে ইচ্ছুক, তারা যেন দ্রুত ব্লক কৃষি দফতরে যোগাযোগ করেন।

এই নতুন উদ্যোগটি কেবল হাতির আক্রমণ থেকে ফসল রক্ষার একটি কার্যকরী উপায়ই নয়, বরং কৃষকদের আয় বৃদ্ধির একটি টেকসই মডেল হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। এটি সফল হলে উত্তরবঙ্গের অন্যান্য হাতি উপদ্রুত এলাকাতেও এই পদ্ধতি অনুসরণ করা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy