“গেরুয়ার জয় হল, হিন্দুত্বের জয় হল”-বললেন প্রজ্ঞা, মালেগাঁও বিস্ফোরণ মামলায় ৭ অভিযুক্তর মুক্তি

২০০৮ সালের মালেগাঁও বিস্ফোরণ মামলার দীর্ঘ ১৭ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে বৃহস্পতিবার এক ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করল মুম্বাইয়ের জাতীয় তদন্ত সংস্থা (NIA) আদালত। এই মামলায় ভারতীয় জনতা পার্টির (BJP) সাংসদ প্রজ্ঞা সিং ঠাকুর, লেফটেন্যান্ট কর্নেল প্রসাদ পুরোহিত-সহ মোট সাতজন অভিযুক্তকেই বেকসুর খালাস করে দিয়েছেন এনআইএ বিশেষ আদালতের বিচারক এ কে লাহোটি। রায় ঘোষণার পর আদালতে আবেগঘন দৃশ্যের সৃষ্টি হয়, যেখানে প্রজ্ঞা ঠাকুর এবং কর্নেল পুরোহিতকে কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায়।

আবেগপ্রবণ প্রজ্ঞা:
রায় ঘোষণার পর বিচারক এ কে লাহোটির সঙ্গে কথা বলার সময় প্রজ্ঞা ঠাকুরকে অত্যন্ত আবেগপ্রবণ অবস্থায় দেখা যায়। তিনি বারবার বলেছেন যে, তার নাম অন্যায়ভাবে এই মামলায় জড়ানো হয়েছিল এবং দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে তাকে অকারণে অসম্মানিত হতে হয়েছে। তিনি দৃঢ়ভাবে জানান যে তিনি নির্দোষ। সূত্রের খবর, আদালতে কথা বলার সময় তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।

আদালতের বাইরে এসে প্রজ্ঞা ঠাকুর সাংবাদিকদের বলেন, “আজ গেরুয়ার জিৎ হল। হিন্দুত্বের জয় হল…”। একই সাথে তিনি যোগ করেন, “যারা গেরুয়ার অপমান করেছেন, তাদের শাস্তি দেবেন ঈশ্বর।” তার এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

প্রমাণাভাব: সকল অভিযুক্তেরই মুক্তি
মালেগাঁও বিস্ফোরণ মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে ছিলেন প্রাক্তন বিজেপি সাংসদ সাধ্বী প্রজ্ঞা সিং ঠাকুর, লেফটেন্যান্ট কর্নেল প্রসাদ পুরোহিত, অবসরপ্রাপ্ত মেজর রমেশ উপাধ্যায়, সুধাকর চতুর্বেদী, অজয় রাহিরকর, সুধাকর ধর দ্বিবেদী এবং সমীর কুলকার্নি। আদালত এই মামলায় সকল অভিযুক্তকেই খালাস করে দিয়েছে। এনআইএ বিশেষ আদালত তার রায়ে স্পষ্ট জানিয়েছে যে, সাধ্বী প্রজ্ঞা এবং কর্নেল পুরোহিতের বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

মামলার প্রেক্ষাপট ও আদালতের নির্দেশ
২০০৮ সালের ২৯শে সেপ্টেম্বর মহারাষ্ট্রের মালেগাঁওয়ে এই বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছিল। এই হামলায় ৬ জন নিহত এবং ১০০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হন। এই মামলায় সাধ্বী প্রজ্ঞাকে মূল অভিযুক্ত করা হয়েছিল।

আদালত নিহতদের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এছাড়াও, বিচারক রায়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন: “সন্ত্রাসবাদের কোনো বর্ণ বা ধর্ম নেই।” এই মন্তব্যটি সমাজের বিভিন্ন স্তরে গভীর তাৎপর্য বহন করছে।

এই রায়ের পর দেশের বিচার ব্যবস্থা এবং সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের বিষয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিনের এই মামলার নিষ্পত্তিতে স্বস্তি ফিরেছে অভিযুক্তদের পরিবারে, তবে নিহতদের পরিবারগুলি এখনও ন্যায়বিচারের সম্পূর্ণ আশা নিয়ে রয়েছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy