শিলিগুড়ি পুরসভার বোর্ড মিটিংয়ে বুধবার এক নজিরবিহীন উত্তেজনা দেখা গেল। মিটিং চলাকালীন এক কাউন্সিলরকে জোরপূর্বক কক্ষ থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে, যা পুরসভার অন্দরে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। এই ঘটনায় ডেপুটি মেয়রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কাউন্সিলরের তীব্র বাদানুবাদ হয় বলে জানা গেছে।
অভিযোগকারী কাউন্সিলর দিলীপ বর্মন দাবি করেছেন, তাঁকে অপমান করে বোর্ড মিটিং থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। ঘটনার সূত্রপাত হয় মিটিংয়ের এক পর্যায়ে, যখন দিলীপ বর্মনের সঙ্গে ডেপুটি মেয়রের কোনো একটি বিষয়ে তীব্র তর্কাতর্কি শুরু হয়। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, শেষ পর্যন্ত দিলীপ বর্মনকে মিটিং কক্ষ ত্যাগ করতে বলা হয় অথবা তাকে জোরপূর্বক বের করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
দিলীপ বর্মনের অভিযোগ, জনগুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে তাঁকে বাধা দেওয়া হয় এবং তাঁর বক্তব্যকে গুরুত্ব না দিয়ে তাঁকে অপমান করা হয়েছে। তিনি এই পদক্ষেপকে ‘অগণতান্ত্রিক’ এবং ‘ক্ষমতার অপব্যবহার’ বলে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে, পুরসভা সূত্রে জানানো হয়েছে, মিটিংয়ের শৃঙ্খলা ভঙ্গ করার কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে ডেপুটি মেয়র এই বিষয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেননি।
এই ঘটনা শিলিগুড়ি পুরসভার অভ্যন্তরে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়েছে। বিরোধীরা এই ঘটনাকে শাসকদলের ‘একনায়কতন্ত্রের’ প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরেছেন। আগামী দিনে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরসভায় আরও রাজনৈতিক চাপানউতোর বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
২. কলকাতার বাইপাসে বিধ্বংসী প্লাস্টিক গোডাউনে অগ্নিকাণ্ড: দাহ্য বস্তুর বিস্ফোরণ ও বহু ঝুপড়ি ভস্মীভূত, দমকলের দেরিতে ক্ষোভ স্থানীয়দের
কলকাতা, ৩০ জুলাই, ২০২৫:
বুধবার সন্ধ্যায় কলকাতার বাইপাস সংলগ্ন মেট্রোপলিটন এলাকার জে ডব্লিউ ম্যারিয়ট হোটেলের কাছে একটি প্লাস্টিকের গোডাউনে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। দাহ্য পদার্থের মজুত থাকার কারণে আগুন দ্রুত বিধ্বংসী রূপ ধারণ করে এবং কালো ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে গোটা এলাকা। এই ঘটনায় গোডাউনের পাশেই থাকা একাধিক ঝুপড়ি ভস্মীভূত হয়ে গেছে, যার ফলে বহু মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, প্রথমে মিটার ঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় বলে অনুমান করা হচ্ছে, যা দ্রুত প্লাস্টিকের গোডাউনে ছড়িয়ে পড়ে। গোডাউনে বিপুল পরিমাণ প্লাস্টিক এবং অন্যান্য দাহ্য বস্তু মজুত থাকায় আগুন লাগার পর থেকেই পরপর বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছিল, যা এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে।
প্রাথমিকভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণের জন্য স্থানীয় বাসিন্দারাই জল দিতে শুরু করেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। তবে আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, স্থানীয়দের পক্ষে তা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ, আগুন লাগার অনেক পরে দমকল বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তাদের এই দেরির কারণে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেড়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।
দমকল বাহিনীর বেশ কয়েকটি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় আগুন নেভানোর কাজ করছে। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, দমকলের চেষ্টায় আগুন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে জানা গেছে, তবে সম্পূর্ণভাবে নেভাতে আরও সময় লাগবে। এই অগ্নিকাণ্ডে বহু মানুষের সর্বস্ব হারিয়েছেন এবং তাদের পুনর্বাসনের বিষয়টি এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে।