বেঙ্গালুরুতে আল-কায়দা মডিউলের মূল চক্রী সন্দেহে মহিলা জঙ্গি গ্রেফতার, নাশকতা ছকের আশঙ্কা

আল-কায়দা ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্ট (AQIS)-এর একটি জঙ্গি মডিউলের মূল চক্রী সন্দেহে বেঙ্গালুরু থেকে শামা পারভীন (৩০) নামের এক মহিলাকে গ্রেফতার করল গুজরাট অ্যান্টি-টেররিস্ট স্কোয়াড (ATS)। গুজরাট এটিএস সূত্রে খবর, এই মহিলা দীর্ঘদিন ধরে বেঙ্গালুরুতে অবস্থান করছিলেন এবং এই জঙ্গি মডিউলের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন। এই গ্রেফতারি AQIS-এর ভারতের ভিতরের কার্যকলাপ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

পুরনো গ্রেফতারি থেকে সূত্রপাত
গুজরাট এটিএস জানিয়েছে, এর আগে এই মডিউলের আরও চার সন্দেহভাজন জঙ্গিকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। এদের মধ্যে মহম্মদ ফারুককে দিল্লি থেকে, মহম্মদ ফারদিনকে আহমেদাবাদ থেকে এবং সইফুল্লা কুরেশিকে উত্তরপ্রদেশের আড়াবলী থেকে পাকড়াও করা হয়। এই তিনজনের কাছ থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এবং পাকিস্তানের ফোন নম্বর উদ্ধার হয়। জানা গেছে, এই তিনজনই AQIS-এর সক্রিয় সদস্য ছিল এবং ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা সংগঠনের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখত। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেই শামা পারভীনের নাম উঠে আসে।

বেঙ্গালুরুতে নাশকতা ছকের আশঙ্কা
গুজরাট এটিএস পুলিশি ইনপুট সংগ্রহ করার পর গত রাতে শামা পারভীনকে বেঙ্গালুরু থেকে গ্রেফতার করে। আদালত তাঁকে গুজরাট এটিএস-এর হেফাজতে পাঠিয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, শামা পারভীনের কাছ থেকে কিছু ডিজিটাল প্রমাণ এবং পাকিস্তানের কিছু ফোন নম্বর পাওয়া গেছে।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, শামা পারভীনের ফোনে বেঙ্গালুরুর বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থানের ছবি পাওয়া গেছে। এই ছবিগুলি দেখে তদন্তকারীরা প্রাথমিকভাবে অনুমান করছেন যে, বেঙ্গালুরুতে কোনো নাশকতার ছক কষা হচ্ছিল। যদিও এই অনুমান সত্য কিনা, তা বিস্তারিত তদন্তের পরেই জানা যাবে। তদন্তকারীরা বর্তমানে শামা পারভীনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে বেঙ্গালুরুতে AQIS-এর অন্যান্য সক্রিয় সদস্যদের সম্পর্কে তথ্য জানার চেষ্টা করছেন।

সাম্প্রতিক ইউটিউবার গ্রেফতারের সঙ্গে যোগসূত্র?
উল্লেখ্য, সম্প্রতি পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে এক ইউটিউবারকে ভারতে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তার মোবাইল থেকেও প্রচুর ছবি ও ভিডিও পাওয়া যায় এবং অভিযোগ ওঠে যে ভ্লগিংয়ের আড়ালে সে গুপ্তচরবৃত্তি চালাচ্ছিল ও দেশের তথ্য পাচার করছিল। শামা পারভীনের ফোনে বেঙ্গালুরুর বিভিন্ন জায়গার ছবি মেলার পর তদন্তকারীরা তাই আরও বেশি সন্দিহান হয়ে পড়েছেন। তারা খতিয়ে দেখছেন যে, এই ঘটনার সঙ্গে পূর্বের কোনো জঙ্গি কার্যকলাপের যোগসূত্র রয়েছে কিনা।

এই গ্রেফতারি প্রমাণ করে যে, আল-কায়দার মতো জঙ্গি সংগঠনগুলো ভারতের অভ্যন্তরে তাদের নেটওয়ার্ক বিস্তারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এই মডিউলের সম্পূর্ণ কার্যকলাপ উদঘাটনের জন্য গুজরাট এটিএস শামা পারভীনকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy