ডায়রিয়া, দ্রুত সুস্থ হতে কী খাবেন, কী এড়িয়ে চলবেন?

এই আবহাওয়া পরিবর্তনের সময় অনেকেরই খাওয়া-দাওয়ার অনিয়মের কারণে ডায়রিয়ার কবলে পড়তে হয়। প্রথম দিকে অবহেলা করলে এটি দ্রুত শরীরকে দুর্বল করে শয্যাশায়ী করে দিতে পারে। ডায়রিয়ার প্রধান বিপদ হলো শরীর থেকে দ্রুত জল, লবণ এবং চিনি বেরিয়ে যাওয়া, যার ফলে ডিহাইড্রেশন, নিম্ন রক্তচাপ বা রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

ডায়রিয়া হলে দ্রুত সুস্থ হতে এবং শরীরের পুষ্টি ও জলের ঘাটতি পূরণ করতে কিছু বিষয় অবশ্যই মাথায় রাখা প্রয়োজন:

জল ও পুষ্টির ভারসাম্য:

প্রচুর জল পান করুন: শরীরকে সুস্থ রাখতে জল, লবণ ও চিনির ঘাটতি পূরণ করতে প্রচুর পরিমাণে জল পান করুন। প্রয়োজনে স্যালাইন জল পান করতে পারেন।

সহজপাচ্য খাবার: এমন খাবার খান যা শরীরের হারিয়ে যাওয়া পুষ্টি ও জলের ঘাটতি মেটাতে পারে।

যা এড়িয়ে চলবেন:

উচ্চ ফাইবারযুক্ত খাবার: এই সময়ে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার রয়েছে এমন খাবার ভুলেও খাবেন না, এতে সমস্যা আরও বাড়বে।

প্রক্রিয়াজাত ও ভারী খাবার: কৃত্রিম মিষ্টি, বেশি লবণ, তেল বা মশলাযুক্ত খাবার পুরোপুরি এড়িয়ে চলুন। এগুলো পেটে চাপ সৃষ্টি করে এবং হজমে সমস্যা বাড়ায়।

ডায়রিয়া হলে যেসব খাবার উপকারী:

১. হালকা খিচুড়ি: অসুস্থ মানুষের পথ্য হিসেবে হালকা খিচুড়ির বিকল্প নেই। ইলিশ মাছ বা বেশি মশলা দিয়ে বানানো খিচুড়ি নয়, বরং শুধু ডাল ও চাল দিয়ে বানানো হালকা এবং সামান্য পাতলা খিচুড়ি সহজে হজম হয় এবং শরীরকে পুষ্টি জোগায়।

২. সুপ: শরীরে পর্যাপ্ত পুষ্টি ও জলের পরিমাণ বজায় রাখতে সুপ খেতে পারেন। সুপ হজম করা সহজ এবং পেটে বেশি চাপ ফেলে না। তবে এই সময় ভারী ও মশলাদার সুপ এড়িয়ে চলুন। স্বাদের চেয়ে পুষ্টির ভারসাম্য বজায় রাখা বেশি জরুরি। চিকেন সুপ বা ভেজিটেবল সুপ ভালো বিকল্প হতে পারে।

৩. দই-ভাত: দইয়ে প্রোবায়োটিক, প্রোটিন এবং অন্যান্য পুষ্টি উপাদান থাকে, যা পাচনতন্ত্রের জন্য উপকারী ‘ভালো ব্যাকটেরিয়া’র বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। একেবারে স্বাদহীন খাবারের বদলে দই দিয়ে ভাত খেলে মুখোরোচক হবে এবং মুখে স্বাদও ফিরবে।

৪. সেদ্ধ শাকসবজি ও ফল: ডায়রিয়ার কারণে খিদে কমে যায়, তবে এই সময় পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া জরুরি। তাই ব্রোকোলি, গাজর, আলু বা ফলের মধ্যে আপেল সেদ্ধ করে খেতে পারেন। স্বাদ আনতে সামান্য লবণ ছিটিয়ে নেওয়া যেতে পারে। এগুলো সহজে হজম হয় এবং শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহ করে।

৫. কলা দিয়ে পিনাট বাটার টোস্ট: শরীর কিছুটা সুস্থ হলে এবং গমে অ্যালার্জি না থাকলে, একঘেয়ে সেদ্ধ খাবারের স্বাদ বদলাতে কলা ও পিনাট বাটার দিয়ে টোস্ট বানিয়ে খেতে পারেন। এটি বানানো সহজ এবং এতে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন রয়েছে। তবে, কৃত্রিম ফ্লেভার বা অতিরিক্ত চিনিযুক্ত পিনাট বাটার ব্যবহার করবেন না; লেবেল দেখে স্বাস্থ্যকর পিনাট বাটার বেছে নিন।

ডায়রিয়া হলে এই খাবারগুলো আপনাকে দ্রুত সুস্থ হতে সাহায্য করবে। তবে, যদি ডায়রিয়া দীর্ঘস্থায়ী হয় বা গুরুতর লক্ষণ দেখা দেয়, তবে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy