বাংলাভাষীদের হেনস্থা ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর মন্তব্যে উত্তাল রাজনীতি, তৃণমূলের কড়া জবাব

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভিনরাজ্যগুলিতে বাংলাভাষীদের হেনস্থার অভিযোগ এবং এ নিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর মন্তব্যকে ঘিরে জাতীয় ও রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র বাদানুবাদ শুরু হয়েছে। এই ইস্যুটিকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই প্রতিবাদে সরব হয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, যিনি এর আগে অসমের মুখ্যমন্ত্রীকে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছিলেন, “বাংলায় কথা বললেই বাংলাদেশি?” এবার সংসদে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী লালন সিংহের আক্রমণের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী লালন সিংহ সংসদে মন্তব্য করেন, “বাংলা একটা বিশেষ রাজ্য, যেখানে আইনের শাসন চলে না।” তাঁর এই মন্তব্যের প্রতিবাদে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক জবাব দেওয়া হয়েছে। তৃণমূল প্রশ্ন তুলেছে, “‘বিশেষ ধরনের রাজ্য’ মানে কী? পশ্চিমবঙ্গ দেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ। অবজ্ঞা নয়, পশ্চিমবঙ্গ চায় সম্মান।”

তৃণমূল কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বিরুদ্ধে বাংলার গরিব মানুষের তহবিল চুরি করে অপমান করার এবং বাংলার মনীষীদের অসম্মান করার অভিযোগ তুলেছে। একই সাথে, বাংলাকে ‘বিহারের তকমা’ দেওয়ার চেষ্টা এবং বাঙালিদের ‘বাংলাদেশি’ আখ্যা দেওয়ার তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে। তৃণমূলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, “গর্বের সঙ্গে বাংলা বলছে বলে আটক করে ফেরত পাঠিয়ে দিচ্ছেন। অবশ্যই বিশেষ, কেননা দিল্লির ফতোয়ায় মাথা নত করে না বাংলা। বিজেপির বিভাজন, ঘৃণার রাজনীতির পরোয়া করে না বলেই বাংলা বিশেষ।”

এই ঘটনায় স্পষ্ট যে, বাংলাভাষীদের পরিচয় এবং সম্মান নিয়ে যে বিতর্ক শুরু হয়েছে, তা আগামী দিনগুলিতে রাজ্য ও জাতীয় রাজনীতিতে আরও প্রভাব ফেলবে। তৃণমূল কংগ্রেস এই ইস্যুটিকে সামনে রেখে বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে এক তীব্র প্রতিবাদী অবস্থান নিয়েছে, যা আগামী নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক মেরুকরণকে আরও স্পষ্ট করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy