২৪ ঘণ্টার জল্পনার পর অবশেষে সোমবারের ‘অপারেশন মহাদেব’ নিয়ে মুখ খুলল কেন্দ্র। আজ সংসদে দাঁড়িয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ নিশ্চিত করলেন যে, শ্রীনগরে সেনা অভিযানে খতম হওয়া তিন জঙ্গিই পহেলগাঁওয়ে পর্যটকদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত ছিল। তিন জঙ্গিকে নিকেশ করার পর থেকেই তাদের পরিচয় নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছিল, সেই প্রশ্নের অবসান ঘটালেন শাহ।
এদিন সংসদে দাঁড়িয়ে অমিত শাহ বলেন, “আমি এই সংসদ ও দেশের প্রতিটি নাগরিককে জানাতে চাই যে যারা বৈসরণে আমাদের দেশের নাগরিকদের হত্যা করেছিলেন, সেই তিন জঙ্গিকেই খতম করা হয়েছে।” ‘অপারেশন মহাদেবে’ খতম হওয়া এই তিন জঙ্গিই যে পহেলগাঁওয়ের সন্ত্রাসবাদী, কেন্দ্র কীভাবে তা নিশ্চিত করছে, সেই প্রসঙ্গেও তিনি বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন।
মঙ্গলবার অধিবেশন চলাকালীন শাহ বলেন, “এখনও পর্যন্ত এক হাজারের বেশি মানুষকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তিন হাজার ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে তদন্ত চলেছে। তারপরেই এই জঙ্গিদের হদিশ পেয়েছে সেনা। এমনকি, এই সন্ত্রাসবাদীদের দেহ শনাক্ত করেছে তাদের পরিবার-পরিজনরাও। পহেলগাঁও হামলায় যে বন্দুকের গুলি ব্যবহার করা হয়েছিল, এই তিন নিহতের দেহ থেকে সেই একই বন্দুকের গুলিই উদ্ধার হয়েছে।”
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, খতম হওয়া জঙ্গিদের দেহ থেকে পাকিস্তানি চকলেটের মোড়ক উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই চকলেটগুলি পাকিস্তানে তৈরি। অনুমান করা হচ্ছে, দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপন করে থাকার জন্যই তারা এই চকলেটগুলি সঙ্গে রেখেছিল। এছাড়াও, নিহত জঙ্গিদের কাছ থেকে পাকিস্তানের ভোটার কার্ড-সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নথি পাওয়া গিয়েছে, যা তাদের পাকিস্তানি যোগসূত্রকে আরও স্পষ্ট করছে।
এই ঘোষণার পর পহেলগাঁও হামলার বিচার পাওয়ার আশায় থাকা নিহতদের পরিবার এবং দেশবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। ভারতের নিরাপত্তা বাহিনীর এই সাফল্য সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থানকে আবারও প্রমাণ করল।