ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রয়াণ দিবসে ফের বাঙালি আবেগকে হাতিয়ার করে রাজনৈতিক তরজায় নামলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার সকালে এক্স (পূর্বতন টুইটার) হ্যান্ডলে দেওয়া এক পোস্টে তিনি সরাসরি বিজেপিকে নিশানা করে অভিযোগ করেন, যারা বর্তমানে বাংলা ও বাঙালির ওপর আক্রমণ চালাচ্ছে, তারাই ২০১৯ সালে বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভেঙেছিল। মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের তীব্র পাল্টা জবাব দিয়েছে বিজেপিও।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর পোস্টে লিখেছেন, “বিদ্যাসাগর আমাদের ঐতিহ্য, আমাদের গর্ব।” তিনি আরও যোগ করেন, “বাংলা তথা ভারতে শিক্ষাক্ষেত্রে তাঁর অবদান এবং নারীর অবস্থার উন্নতির জন্য তাঁর লড়াই আমরা কখনও ভুলতে পারব না।” মুখ্যমন্ত্রী স্মরণ করিয়ে দেন যে, “আমরা আজ যা, তা অনেকটাই তাঁর অবদান, সেই বর্ণপরিচয় থেকে যার শুরু।”
এরপরই তাঁর আক্রমণের মূল সুরটি স্পষ্ট হয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লেখেন, “আজ যখন দেশজুড়ে বিজেপির নেতৃত্বে বাংলা ভাষা ও বাঙালির ওপর আক্রমণ শুরু হয়েছে, তখন এই মহামনীষীর জীবন, শিক্ষা ও দর্শন আরও বেশি করে প্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েছে।” সরাসরি বিজেপিকে বিঁধে তিনি অভিযোগ করেন, “যারা আজ বাংলা ও বাঙালিকে আক্রমণ করছে, তারাই বিদ্যাসাগরের দ্বিশতবর্ষে কলকাতায় বিদ্যাসাগর কলেজে তাঁর মূর্তি ভেঙেছিল। আমরা সেই মূর্তি পুনঃস্থাপন করেছি।” ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে কলকাতায় বিজেপির তৎকালীন সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহের রোড শো চলাকালীন বিদ্যাসাগর কলেজে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙা নিয়ে ব্যাপক রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল।
মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পর দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজনৈতিক ফায়দা তোলার জন্য বারবার পুরনো ঘটনাকে সামনে আনছেন এবং ইতিহাসকে বিকৃত করছেন। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, তারা বাংলা এবং বাঙালির সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।
বিদ্যাসাগরের প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে এই রাজনৈতিক বাদানুবাদ আবারও পশ্চিমবঙ্গে বাঙালি আবেগ এবং ভাষাভিত্তিক রাজনীতির গুরুত্বকে সামনে আনল।