অসমের গোলাঘাট জেলার উরিয়ামঘাটের রেংমা সংরক্ষিত বনের পার্শ্ববর্তী এলাকায় মঙ্গলবার এক বিশাল উচ্ছেদ অভিযান শুরু হতে চলেছে, যা রাজ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে ‘মেগা এভিকশন’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হচ্ছে। এই মুহূর্তে উরিয়ামঘাট সংলগ্ন এলাকায় অসম পুলিশের এক হাজারেরও বেশি সদস্য, আধা-সামরিক বাহিনীর জওয়ান এবং জেলা ও রাজ্য প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা বুলডোজার নিয়ে প্রস্তুত।
অসমে অনুপ্রবেশকারী উচ্ছেদ অভিযান নতুন না হলেও, সাম্প্রতিককালে এত বড় আকারের অভিযান দেখা যায়নি। প্রশাসনের দাবি, মঙ্গলবারের এই অভিযানে বন সংলগ্ন প্রায় ১০ হাজার বিঘা জমি উদ্ধার করা হবে এবং প্রায় দু’হাজার পরিবারকে উচ্ছেদ করা হবে। ধারণা করা হচ্ছে, এই অভিযানের ফলে পনেরো থেকে বিশ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হবেন।
উচ্ছেদ হতে যাওয়া এই পরিবারগুলি মূলত বাংলাভাষী। অসম প্রশাসনের দাবি, এরা ‘বহিরাগত’ এবং এদের বেশিরভাগই বাংলাদেশি মুসলিম, যারা ‘অনুপ্রবেশকারী’। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা এর আগে একাধিকবার অসমকে অনুপ্রবেশকারী-মুক্ত করার অঙ্গীকার করেছেন। সম্প্রতি গোলাঘাট সফর শেষে তিনি দাবি করেছিলেন যে, ৭০ শতাংশ দখলদার স্বেচ্ছায় সরে গিয়েছেন।
প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, বন সংলগ্ন জমিতে প্রায় ২৭০০ পরিবার বসবাস করছিল, যার মধ্যে দু’হাজার পরিবারকে আজ উচ্ছেদ করা হবে। তবে, উচ্ছেদের পর এই পরিবারগুলির ভবিষ্যৎ কী হবে, তা নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো সুস্পষ্ট আশ্বাস দেওয়া হয়নি। তাদের বক্তব্য, এই বিষয়ে তাদের কিছু করার নেই এবং কোনো সরকারি জমিতে তাদের আশ্রয় নিতে দেওয়া হবে না। এই ব্যাপক উচ্ছেদ অভিযানের ফলে এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা ও মানবিক সংকট তৈরির আশঙ্কা করা হচ্ছে।