উত্তর ২৪ পরগনার হাসনাবাদের মাখালগাছা পঞ্চায়েত এলাকায় এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ সামনে এসেছে, যেখানে একটি বাংলাদেশি দম্পতির কাছে একইসঙ্গে ভারত ও বাংলাদেশের ভোটার কার্ড রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য ইবাদুল সানা এই অভিযোগ তুলেছেন এবং বিষয়টি থানা ও জেলা প্রশাসনকেও জানিয়েছেন। তবে সোমবার সকালে ওই দম্পতিকে তাদের বাড়িতে গিয়ে পাওয়া যায়নি।
অভিযুক্ত দম্পতি হলেন আকবর আলি গাজী এবং ফারহানা গাজী। অভিযোগ, তারা কেবল ভারতে বসবাসই করছেন না, ভারতীয় ভোটার তালিকাতেও নিজেদের নাম অন্তর্ভুক্ত করেছেন। ইতিমধ্যেই তাদের উভয় দেশের ভোটার তালিকা ও কার্ডের প্রতিলিপি প্রকাশ্যে এসেছে, যা এই অভিযোগকে আরও জোরালো করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই দম্পতি ২০১৯ সালে ভারতে চলে আসেন এবং মাখালগাছা অঞ্চলে গিয়াসউদ্দিন গাজীর বাড়িতে বসবাস শুরু করেন। গিয়াসউদ্দিন গাজী মাখালগাছা অঞ্চল তৃণমূল কংগ্রেস কমিটির সম্পাদক এবং এনআরইজি প্রকল্পের সুপারভাইজার। অভিযোগকারী পঞ্চায়েত সদস্য ইবাদুল সানা জানান, তিনি বহুবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে এই বিষয়ে জানিয়েছেন, কিন্তু কোনো সুরাহা হয়নি। তিনি বলেন, “২০১৯-এ উনি ভোটার হন। ২০২৩ সালে জেতার পর আমি অভিযোগ জানাই। থানায়, জেলাশাসকের কাছেও অভিযোগ জানিয়েছি। আমি চাই অবিলম্বে এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”
অন্যদিকে, দম্পতির আত্মীয় গিয়াসউদ্দিন গাজী এই অভিযোগ অস্বীকার না করে বলেন, “কর্মসূত্রে ওরা ওখানে ছিল। কিছুদিনের জন্য বসবাস করতে এসেছিল। ওখানে ভোটার কার্ড ছিল কি না আমার জানা নেই। তবে এখানে থাকবে বলে করেছিলেন। অনেকে এরকম করে।” তার এই মন্তব্য বিতর্ক আরও বাড়িয়েছে।
এলাকার বিধায়ক রফিকুল ইসলামকে এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “বিষয়টা জানা নেই। এগুলি দেখার জন্য আমাদর প্রশাসন আছে। বিডিও নিশ্চয় ব্যাপারটা দেখবে। পুলিশ প্রশাসনও দেখবে। উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবে। যারা এদেশের নাগরিক তারাই শান্তিতে থাকুক, এটা চাই।”
এই ঘটনা আবারও সীমান্ত সুরক্ষা এবং ভোটার তালিকা যাচাই প্রক্রিয়ার দুর্বলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দাবি করছেন, এ ধরনের ঘটনা দেশের নিরাপত্তা এবং নাগরিকত্বের পবিত্রতা নষ্ট করছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত এই অভিযোগের তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে।