বাংলায় কথা বলার ‘অপরাধে’ মুম্বইয়ে আটক বাঙালি পরিচারিকা! ফের বাংলাদেশি সন্দেহে হেনস্থার অভিযোগ

কর্মসূত্রে মুম্বইতে থাকা উত্তর ২৪ পরগনার এক তরুণীকে ‘বাংলাদেশি’ সন্দেহে আটক করার ঘটনায় আবারও বিতর্কের ঝড় উঠেছে। পরিবারের অভিযোগ, শুধু বাংলায় কথা বলার কারণেই মহারাষ্ট্র পুলিশ তাদের মেয়েকে হেনস্থা করেছে। এই ঘটনা রাজ্যের পরিযায়ী শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও আজ এই বিষয়ে সরব হয়েছেন।

ঘটনার সূত্রপাত হয় গত ২৪শে জুলাই। উত্তর ২৪ পরগনার গোপালনগর থানার সুন্দরপুর খাবরাপোতার বাসিন্দা পারভিনা বিবি (বয়স উল্লেখ নেই) প্রায় ২০-২৫ দিন আগে মুম্বইতে পরিচারিকার কাজ করতে গিয়েছিলেন। অভিযোগ, সেদিন মুম্বইয়ের অম্বরনাথ থানার পুলিশ তাকে আটক করে নিয়ে যায়। পারভিনার পরিবারের দাবি, মুম্বইতে পারভিনা বাংলায় কথা বলছিলেন, আর সে কারণেই তাকে বাংলাদেশি বলে সন্দেহ করে পুলিশ।

পারভিনার পরিবার প্রথমে এই খবর জানতে পারেনি। পরে গোপালনগর থানার পুলিশ তাদের বাড়িতে গিয়ে বিষয়টি জানায় এবং পারভিনার নাগরিকত্ব সংক্রান্ত কাগজপত্র দেখতে চায়। পরিবারের সদস্যরা গোপালনগর থানার পুলিশকে তাদের সমস্ত বৈধ কাগজপত্র দেখান। এরপর গোপালনগর থানার পুলিশের সহযোগিতায় সেই রাতেই মুম্বই পুলিশ পারভিনাকে ছেড়ে দেয়।

পারভিনা বিবির বাবা সংবাদমাধ্যমকে জানান, “আমরা এখানকারই বাসিন্দা। মুম্বইতে বাংলায় কথা বলায় মেয়েকে পুলিশ ধরেছে। গোপালনগর থানার পুলিশ কাগজপত্র দেখানোর পর ছেড়ে দিয়েছে। কিন্তু তারপরেও আমরা আতঙ্কে রয়েছি, আবার যদি ধরে। সেই কারণে মেয়েকে বলেছি বাড়ি চলে আসতে। ওরকম কাজের দরকার নেই।”

এই ঘটনায় এলাকার প্রতিবেশীরাও ক্ষুব্ধ। তাদের দাবি, এতদিন ধরে বাংলায় থাকার পরও যদি এভাবে পুলিশ হেনস্থা করে, তাহলে তা অত্যন্ত দুঃখজনক। পারভিনাকে ছাড়ার আগে তার দলিল এবং পরিবারের সদস্যদের ভোটার কার্ডও নেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ।

উল্লেখ্য, দেশের একাধিক রাজ্য থেকে এর আগেও একই ধরনের অভিযোগ সামনে এসেছে, যেখানে বাংলাভাষী পরিযায়ী শ্রমিকদের ‘বাংলাদেশি’ সন্দেহে আটক করা হয়েছে বা হেনস্থা করা হয়েছে। এই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও আজ ফের সরব হয়েছেন এবং এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। এই ঘটনা পরিযায়ী শ্রমিকদের নিরাপত্তা এবং তাদের ভাষা ও পরিচয়ের অধিকার নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy