দীর্ঘদিনের বঞ্চনার প্রতিবাদে এবং নিজেদের ন্যায্য দাবির সমর্থনে আজ নবান্ন অভিযান শুরু করলে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ এবং গ্রুপ ডি চাকরিপ্রার্থীদের বিক্ষোভ মিছিল আটকে দেয় পুলিশ। ব্যারিকেড দিয়ে আটকে দেওয়ার পর পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ শুরু হয়। শেষমেশ, নবান্নের কাছাকাছি পৌঁছতে না পেরে রাস্তাতেই বসে পড়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন তাঁরা।
চাকরিপ্রার্থীদের অভিযোগ, সরকারের উদাসীনতার কারণে তাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। বছরের পর বছর ধরে চাকরির জন্য অপেক্ষা করেও কোনো সুরাহা মেলেনি। এই পরিস্থিতিতে নবান্ন অভিযানের মাধ্যমে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চেয়েছিলেন তাঁরা। তবে পুলিশি বাধায় তাদের সেই চেষ্টা ব্যাহত হয়।
আজ সকাল থেকেই হাওড়া স্টেশন সংলগ্ন এলাকা এবং অন্যান্য নির্দিষ্ট স্থানগুলিতে জড়ো হতে শুরু করেন হাজার হাজার চাকরিপ্রার্থী। তাদের হাতে ছিল প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার, যেখানে দ্রুত নিয়োগের দাবি এবং দুর্নীতির প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। মিছিল নবান্নের দিকে এগোতেই তেলকল ঘাট রোড সহ একাধিক জায়গায় আগে থেকেই মোতায়েন থাকা বিশাল পুলিশ বাহিনী তাদের পথ আটকায়। পুলিশ আন্দোলনকারীদের বেআইনি জমায়েত বলে ঘোষণা করে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিলেও, তারা নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকে।
আন্দোলনকারীদের দাবি, শান্তিপূর্ণভাবে তাদের প্রতিবাদ জানানোর অধিকার আছে। তাদের কয়েকজন নেতা পুলিশের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেন, কিন্তু কোনো ফল হয়নি। দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকার পর অবশেষে তারা রাস্তায় বসে পড়ে স্লোগান দিতে শুরু করে। আন্দোলনকারীদের মধ্যে অনেকেই বলেন, “যতক্ষণ না আমাদের দাবি মানা হচ্ছে, ততক্ষণ আমরা এখান থেকে উঠব না।”
এই ঘটনায় শহরের বেশ কিছু এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ে। তবে আন্দোলনকারীরা জানান, তাদের এই বিক্ষোভ একমাত্র সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করার জন্যই। তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে সরকার দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা। এই মুহূর্তে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন রয়েছে।