পাড়ার মধ্যেই ‘রঙিন চক্র’ খুলে ‘বেরঙিন’ জীবন তৈরি করছিল একদল দুষ্কৃতী। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে মুর্শিদাবাদের বহরমপুর থানার পুলিশ আজ দুপুরে এক অভিযানে বলরামপুর এলাকায় একটি বাড়িতে চলন্ত মধুচক্রের পর্দাফাঁস করেছে। এই ঘটনায় ৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং এক নাবালিকাকে উদ্ধার করা হয়েছে, যাকে এই অবৈধ কাজে ব্যবহার করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বলরামপুর এলাকার শ্যামসুন্দর মণ্ডল নামে এক ব্যক্তির বাড়ি মাসিক ৭ হাজার টাকা বিনিময়ে ভাড়া নিয়েছিল অক্ষয় নুনিয়া ও তার স্ত্রী শম্পা শিল নুনিয়া। অভিযোগ, এরপরেই তারা এই বাড়িতে একটি পতিতালয়ের ব্যবসা শুরু করে। প্রতিবেশী এবং স্থানীয়দের কাছে এই অবৈধ কার্যকলাপের খবর পৌঁছেছিল এবং শেষ পর্যন্ত তা পুলিশের কানেও যায়।
রবিবার দুপুরেই বহরমপুর থানার পুলিশ দলবল নিয়ে ওই বাড়িতে অভিযান চালায়। ঘটনাস্থল থেকে ৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়। ধৃতদের নাম শম্পা শিল নুনিয়া, অক্ষয় নুনিয়া, গোলাম রসুল, অঙ্কুর রায়, সায়ন দাস, প্রীতম বারুই এবং অমিত মণ্ডল। ধৃতদের প্রত্যেকের বয়স ১৯ থেকে ২৪ বছরের মধ্যে।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, এই চক্রে একটি নাবালিকাকেও ব্যবহার করা হচ্ছিল। পুলিশ ওই নাবালিকাকে উদ্ধার করেছে। পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, অভিযুক্তরা ওই নাবালিকাকে ব্যবহার করেই এই মধুচক্র চালাচ্ছিল এবং দিনের পর দিন তার উপর যৌন নির্যাতন ও নিগ্রহ চালাচ্ছিল।
ধৃতদের বিরুদ্ধে পাচার, যৌন নিগ্রহ এবং পকসো (POCSO) আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া নাবালিকাকে স্থানীয় একটি বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার (NGO) কাছে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে। আগামীকাল, সোমবার, ধৃতদের জেলা আদালতে তোলা হবে।
এই ঘটনায় বলরামপুর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য পুলিশের প্রশংসা করেছেন এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।