বিহারের পর এবার মহারাষ্ট্র। ফের গণধর্ষণের এক ভয়াবহ অভিযোগ সামনে এল। পুনের লোনাভালায় এক ২৩ বছর বয়সী তরুণীকে রাস্তা থেকে জোর করে গাড়িতে তুলে গণধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাথমিক তদন্তে মনে করা হচ্ছে, অপহরণের পর তরুণীর হাত-পা বেঁধে অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়। পরবর্তীতে নির্যাতিতাকে চলন্ত গাড়ি থেকে রাস্তার ধারে ছুড়ে ফেলে পালিয়ে যায় অভিযুক্তরা। এই ঘটনায় পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে, তবে বাকিরা এখনও পলাতক।
শনিবার সকালে এই নৃশংস ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে, যা লোনাভালা সহ গোটা মহারাষ্ট্রে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় পুলিশ আধিকারিক রাজেশ রামঘড়ে সাংবাদিকদের জানান, “অভিযোগ পাওয়ার মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যে এক অভিযুক্তকে চিহ্নিত করে লোনাভালা সিটি থানার পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছে। তদন্ত এখনও চলছে এবং বাকি অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে।”
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার রাতে ২৩ বছর বয়সী ওই তরুণী লোনাভালার টুংগারলি এলাকায় নারায়ণী ধাম মন্দিরের সামনে দিয়ে যাচ্ছিলেন। সেই সময় একটি গাড়ি তাঁর পথ আটকায় এবং তাঁকে জোর করে গাড়িতে তুলে নেওয়া হয়। গাড়িতে তোলার পরই অভিযুক্তরা তাঁর হাত-পা বেঁধে ফেলে। অভিযোগ, এরপর গাড়িটি বিভিন্ন জায়গায় থামিয়ে ওই তরুণীকে গণধর্ষণ করা হয়। নির্যাতিতা তদন্তকারীদের জানিয়েছেন, গাড়িতে মোট তিনজন ছিল এবং তাদের বয়স ২৫ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে।
গণধর্ষণের পর অভিযুক্তরা নির্যাতিতাকে ননগারগাঁও এলাকার রাস্তার ধারে ফেলে দিয়ে পালিয়ে যায়। শনিবার সকালে কোনোরকমে স্থানীয়দের সহায়তায় নির্যাতিতা লোনাভালা সিটি থানায় অজ্ঞাতপরিচয় তিন যুবকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। এরপরই পুলিশ দ্রুত তদন্ত শুরু করে। নির্যাতিতার শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে এবং পুলিশ ওই এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছে।
পুলিশের তৎপরতায় সুনীল গাইকোয়াড় নামের এক অভিযুক্তকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে বাকি দুই অভিযুক্ত এখনও অধরা। তাদের ধরতে পুলিশ বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালাচ্ছে। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ মানুষ অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার ও কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।