ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ ও ‘পুশব্যাক’ বিতর্ক, প্রধানমন্ত্রীকে সরাসরি নিশানা করে কল্যাণের ‘ঐশ্বরিক জন্ম’ কটাক্ষ

ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া এবং বাংলাভাষীদের বাংলাদেশে ‘পুশব্যাক’ করার অভিযোগ ঘিরে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি উত্তাল। এই বিতর্ক এবার সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ঘিরে নতুন মাত্রা পেল। তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রধানমন্ত্রীকে তীব্র কটাক্ষ করে তাঁর ‘ঐশ্বরিক জন্ম’ সংক্রান্ত পুরনো মন্তব্যকে হাতিয়ার করেছেন। শ্রীরামপুরের এই সাংসদ সটান বলেছেন, মোদিকেই বরং দেব-দেবীদের কাছে ‘পুশব্যাক’ করা উচিত।

রবিবার উত্তরপাড়ায় একটি জনসভায় কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “নরেন্দ্র মোদি নিজেই একসময় বলেছিলেন যে তিনি বায়োলজিক্যাল সন্তান নন, বরং স্পিরিচুয়াল সন্তান। অর্থাৎ, তাঁর জৈবিক জন্ম হয়নি। প্রশ্ন হলো, মা কালী কি ভারতীয় নাগরিক? শিব বা শ্রীরামই বা কি ভারতীয় নাগরিক? যদি নরেন্দ্র মোদির জৈবিকভাবে জন্ম না-ই হয়ে থাকে, তাহলে তিনিও তো ভারতীয় নাগরিক নন! তাহলে তাঁর নাম ভোটার তালিকায় কী করে থাকবে? তাঁকে তো তাহলে দেব-দেবীদের কাছেই পুশব্যাক করে দেওয়া উচিত! অদ্ভুত এক দেশ চলছে!”

উল্লেখ্য, গত বছর মে মাসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁর নির্বাচনী প্রচারে বলেছিলেন যে, তিনি বিশ্বাস করেন ঈশ্বরই তাঁকে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। একটি সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, “মা যখন বেঁচেছিলেন, তখন মনে হত হয়তো আমাকে বায়োলজিক্যালি জন্ম দেওয়া হয়েছে। মা চলে যাওয়ার পর এইসব অনুভূতিগুলো মিলিয়ে আমার এই বিশ্বাস জন্মেছে যে আমাকে ঈশ্বরই পাঠিয়েছেন।” সেই মন্তব্যকেই এদিন ‘এসআইআর’ (Special Intensive Review) বিতর্কের আবহে টেনে এনে প্রধানমন্ত্রীকে বিঁধলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।

এই প্রসঙ্গে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ‘এসআইআর’ প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, “যারা বাংলাকে ছোট করবে, বাংলা ভাষাকে ছোট করবে, তাদেরকে আমরা কখনও মেনে নিতে পারব না। সব ধর্ম, জাতি এবং সব ভাষাভাষীর মানুষকে আমরা শ্রদ্ধা করি। কিন্তু আমাদের বাংলা ভাষাকে কেউ যদি ছোট করতে চায়, বাংলা ভাষায় কথা বললে কাউকে যদি গ্রেফতার করে, তার বিরুদ্ধে আমরা গর্জে উঠব। বাংলা আমার দৃপ্ত স্লোগান, এই স্লোগানের মধ্যে দিয়েই আমরা বড় হয়েছি। বাংলা ভাষাকে সহ্য না-করতে পারলে থাকবেন না।”

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূল বাঙালি ও বাংলা ভাষার ইস্যুতে সুর চড়াচ্ছে। এর মধ্যেই কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, “ভোটাররাই সরকার ঠিক করে। এখন আবার উল্টো হচ্ছে, নরেন্দ্র মোদির সরকার বলছে আমি ঠিক করে দেব কারা ভোটার হবে, কারা হবে না। বিজেপির লোক আর বিজেপির সঙ্গে যারা রয়েছে তাদের ছাড়া কাউকে ভোটার রাখবে না।” তিনি নির্বাচন কমিশনকেও আক্রমণ করে বলেন, “নির্বাচন কমিশনও তাই। বিজেপির পার্টি অফিস থেকে মুচলেকা নিয়ে এসো, তবে তোমার নাম ভোটার লিস্টে থাকবে। এর বিরুদ্ধে গর্জে উঠতে হবে আমাদের। সারা বাংলা, ভারতব্যাপী আন্দোলন করতে হবে।”

কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বাঙালি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিরোধের ডাক দিয়ে বলেন, “স্বাধীনতা যুদ্ধে বাঙালিরা এক নম্বর জায়গায় ছিল, তারপর ছিল পঞ্জাবীরা। আমরা লাল চোখ সহ্য করব না। নরেন্দ্র মোদি জেনে রাখুন, বাঙালিদের রোষেই কিন্তু আপনাকে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে যেতে হবে।” সাংসদের এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy