শরীরকে সুস্থ রাখতে সঠিক আহারের কোনো বিকল্প নেই, আর তার মূল বিচার্য বিষয় হলো খাবারের পুষ্টিগুণ। যে খাবারের পুষ্টিমূল্য যত বেশি, তা আমাদের শরীরের জন্য তত ভালো। কিন্তু শুধু পুষ্টিগুণ দেখলেই চলবে না, কোন খাবারের সঙ্গে কোন খাবার খাওয়া উচিত নয়, সেই জ্ঞান থাকাও অত্যন্ত জরুরি। কারণ, ভুল খাদ্যাভ্যাস থেকে সাধারণ গা ম্যাজম্যাজ, বমি, পায়খানা, গ্যাস-অম্বল থেকে শুরু করে মারাত্মক শারীরিক সমস্যা, এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা প্রতিদিন একটি করে ডিম খাওয়ার পরামর্শ দেন, কারণ ডিম আমাদের শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী। কিন্তু এই পুষ্টিকর ডিমের সঙ্গে কিছু খাবার একসঙ্গে গ্রহণ করলে তা শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে। জেনে নিন ডিমের সঙ্গে কোন খাবারগুলো এড়িয়ে চলা উচিত:
১. চিনি: ডিম আর চিনি একসঙ্গে মিশে শরীরে ক্ষতিকর অ্যামাইনো অ্যাসিড তৈরি করতে পারে, যা রক্ত জমাট বাঁধিয়ে দিতে পারে। তাই ডিমের সাথে সরাসরি চিনি মিশিয়ে খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।
২. সয়া দুধ: সয়া মিল্কের সঙ্গে ডিম খেলে দেহে প্রোটিনের শোষণ বাধাপ্রাপ্ত হয়। এতে ডিমের সম্পূর্ণ পুষ্টিগুণ শরীর গ্রহণ করতে পারে না, যা হজম জনিত সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।
৩. চা: ডিম এবং চা একসঙ্গে খাওয়া অনেকের কাছেই খুব পছন্দের। বিশেষত ডিমভাজার সঙ্গে চা বা কফি খাওয়া একটি সাধারণ অভ্যাস। কিন্তু এই দুটি খাবার একসঙ্গে হজম করা বেশ কঠিন। এর ফলে কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যা হতে পারে, যা পরবর্তীতে শরীরের জন্য বড় ধরনের ক্ষতি ডেকে আনতে পারে।
৪. বেকন: ব্রেকফাস্ট টেবিলে ডিম এবং বেকনের কম্বিনেশন বিশ্বজুড়েই অত্যন্ত জনপ্রিয়। কিন্তু বেকন এবং ডিম— এই দুটির মধ্যেই প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন এবং ফ্যাট থাকে। একসঙ্গে খেলে তাৎক্ষণিক শক্তি পেলেও, খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সেই শক্তি ফুরিয়ে যায় এবং শরীর ক্লান্ত ও অবসন্ন হয়ে পড়ে। এটি হজমতন্ত্রের উপরও অতিরিক্ত চাপ ফেলে।
৫. পারসিমন (জাপানি ফল): পারসিমন এক ধরনের মিষ্টি জাপানি ফল। ডিম খাওয়ার পর এই ফল খেলে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা মারাত্মকভাবে বেড়ে যেতে পারে, যা পেটে ব্যথা এবং অস্বস্তির কারণ হতে পারে।
অন্যান্য যে খাবারগুলো ডিমের সঙ্গে এড়িয়ে চলবেন:
ডিমের সঙ্গে তরমুজ জাতীয় কোনো ফল খাওয়া উচিত নয়। এছাড়াও, চিজ, দুধ, অন্যান্য দুগ্ধজাত দ্রব্য এবং বিভিন্ন শস্যদানা ডিমের সঙ্গে পরিহার করাই ভালো। এই ধরনের মিশ্রণগুলি হজম প্রক্রিয়াকে বিঘ্নিত করতে পারে এবং শারীরিক অস্বস্তির কারণ হতে পারে।
সুতরাং, সুস্থ থাকতে শুধু পুষ্টিকর খাবার খাওয়া নয়, কোন খাবার কার সঙ্গে মেশালে কী প্রতিক্রিয়া হয়, সে বিষয়েও সতর্ক থাকা অত্যন্ত জরুরি। সঠিক খাদ্যাভ্যাসই আপনাকে সুস্থ ও রোগমুক্ত জীবন দিতে পারে।