কম্পিউটার, ল্যাপটপ, ফোন, আর টিভির স্ক্রিনে চোখ রেখে দিনের বেশিরভাগ সময় কাটানোর ফলে আমাদের চোখের উপর চাপ পড়ছে মারাত্মক। এর ফলস্বরূপ, আজকাল অল্প বয়সেই চশমার আশ্রয় নিতে হচ্ছে অনেককে। চোখ ভালো রাখার জন্য চোখের পাতা ফেলা বা চোখ বন্ধ রাখার মতো কিছু কৌশল থাকলেও, সবচেয়ে বেশি উপকার পাওয়া যায় কিছু নির্দিষ্ট খাবার থেকে। আপনার খাদ্যতালিকায় কিছু বিশেষ খাবার যোগ করলেই চোখের স্বাস্থ্য থাকবে ঝলমলে!
জেনে নিন চোখ ভালো রাখতে আপনার খাদ্যতালিকায় কোন কোন খাবার রাখবেন:
১. সবুজ শাক-সবজি: দৃষ্টিশক্তির মূল উৎস
ছোটদের কাছে শাক-সবজি হয়তো খুব পছন্দের নয়, কিন্তু চোখের দৃষ্টিশক্তির জন্য সবুজ শাক-সবজির কোনো বিকল্প নেই। এতে প্রচুর পরিমাণে লুটেইন এবং জেক্সানথিন থাকে, যা চোখকে সূর্যের ক্ষতিকারক অতিবেগুনি রশ্মি থেকে রক্ষা করে এবং বয়সজনিত ম্যাকুলার ডিজেনারেশন (AMD) প্রতিরোধে সাহায্য করে। তাই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় পালং শাক, কেল, ব্রোকলি, এবং অন্যান্য সবুজ শাক-সবজি রাখা অত্যন্ত জরুরি।
২. ডিম: জিঙ্ক ও জেক্সানথিনের ভাণ্ডার
দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে এবং চোখকে সুস্থ রাখতে খাদ্যতালিকায় প্রতিদিন একটি করে ডিম যোগ করা উচিত। ডিমে প্রচুর পরিমাণে জিঙ্ক, লুটেইন এবং জেক্সানথিন থাকে, যা চোখের রেটিনাকে সুস্থ রাখতে এবং ক্ষতিকারক নীল আলো থেকে চোখকে রক্ষা করতে সাহায্য করে। এই উপাদানগুলো চোখের সার্বিক স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী।
৩. লেবু: ভিটামিন সি-এর জোগান
লেবু জাতীয় যেকোনো ফলই চোখের জন্য দারুণ উপকারী। লেবুতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি থাকে, যা চোখের রক্তনালীগুলোকে শক্তিশালী করে এবং ছানি পড়ার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। ভিটামিন সি চোখের স্বাস্থ্য বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই প্রতিদিনের খাবারে পাতিলেবু, কমলালেবু, বা মুসাম্বির মতো লেবু যোগ করুন।
৪. বাদাম: চোখের পাওয়ার ধরে রাখতে
চোখের সমস্যা বাড়তে না চাইলে অথবা চশমার পাওয়ার যেন না বাড়ে, তার জন্য খাদ্যতালিকায় বাদাম রাখা অত্যন্ত জরুরি। বাদামে ভিটামিন ই এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে, যা চোখকে ফ্রি র্যাডিকেলসের ক্ষতি থেকে রক্ষা করে এবং শুষ্ক চোখের সমস্যা প্রতিরোধে সাহায্য করে। আখরোট, আমন্ড, চিনাবাদাম – যেকোনো বাদামই চোখের জন্য উপকারী।
৫. মাছ: ফ্যাটি অ্যাসিডের উপকারিতা
ছোট মাছ চোখের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এতে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড রেটিনার কার্যক্ষমতা বাড়াতে এবং চোখের সামগ্রিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে। ছোট মাছের পাশাপাশি সামুদ্রিক মাছ, যেমন স্যামন, টুনা, বা সার্ডিনও খাওয়া যেতে পারে। এতে থাকা স্বাস্থ্যকর ফ্যাটি অ্যাসিড চোখের শুষ্কতা দূর করতে এবং চোখের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে।
সুতরাং, চশমার নির্ভরতা কমাতে বা চোখকে সুস্থ রাখতে ওষুধ বা কৌশল নয়, বরং সঠিক খাদ্যাভ্যাসের উপর ভরসা রাখুন। এই খাবারগুলি নিয়মিত খেলে আপনার চোখ থাকবে সতেজ ও সুস্থ।