ভোটের আগে বাংলায় ভোটার তালিকা শুদ্ধিকরণ বিতর্ক, শুভেন্দুর ‘১.২৫ কোটি বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা বাদ’ মন্তব্যে তোলপাড়

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা সংশোধনের সম্ভাবনা ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র জল্পনা ও বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিহারে ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ শেষ হওয়ার পর এই জল্পনা আরও তীব্র হয়েছে, যেখানে প্রায় ৬৫ লক্ষ ২০ হাজার নাম বাদ পড়েছে। এই প্রেক্ষাপটে পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বিস্ফোরক মন্তব্য করে বিতর্কের আগুনে ঘি ঢাললেন।
শুক্রবার শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছেন, বিহারে যদি ৫০ লক্ষ নাম বাদ যায়, তাহলে পশ্চিমবঙ্গে “১ কোটি ২৫ লক্ষ বাংলাদেশি মুসলমান আর রোহিঙ্গা বাদ যাবে।” তাঁর এই মন্তব্য রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে তুমুল আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। তিনি স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, বিহারের দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে বাংলাতেও ব্যাপক আকারে ভোটার তালিকা শুদ্ধিকরণ প্রক্রিয়া শুরু হওয়া উচিত।
শুভেন্দু অধিকারী তাঁর মন্তব্যের সমর্থনে বলেছেন, “মুসলমান পাড়ায় পাবেন আপনি বাংলাদেশের মেয়ে-বউ। বাংলাদেশের মুসলমান মেয়েদেরকে এনে বিয়ে করেছে। কেউ ভিসা করে এসেছে, আর ফিরে যায়নি। আর অনেকেই ভিসা না করে, মমতার দয়ায় বেড়া নেই, ৫৪০ কিলোমিটার, ঢোকাচ্ছে শেষ করে দিচ্ছে।” তিনি অভিযোগ করেন যে, অবৈধ অভিবাসনের ফলে রাজ্যের জনসংখ্যার বিন্যাস এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া প্রভাবিত হচ্ছে।
নিজের বক্তব্যের মাধ্যমে শুভেন্দু অধিকারী ভারতীয় হিন্দু ও মুসলমানদের পাশাপাশি “ধর্মীয় কারণে বাংলাদেশ থেকে আসা হিন্দুদের” আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেছেন। তিনি বলেন, “সব হিন্দুদেরকে আমি আশ্বাস দিচ্ছি, ভারতীয় হিন্দু-মুসলমানকে আশ্বাস দিচ্ছি, আর ধর্মীয় কারণে বাংলাদেশ থেকে আসা হিন্দুদের আশ্বাস দিচ্ছি, একটা কাররও কোনও অসুবিধা হলে, উপরে মোদিজি যদি গ্যারেন্টার থাকেন, এই রাজ্যের LOP-ও একটা ছোটখাট গ্যারেন্টার।” এর মাধ্যমে তিনি একদিকে যেমন অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিয়েছেন, তেমনই বৈধ নাগরিকদের সুরক্ষার আশ্বাস দিয়েছেন।
বিরোধী দলনেতার এই মন্তব্যের পর রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া আসেনি। তবে, এই ইস্যু যে আগামী দিনে রাজ্যের রাজনীতিতে এক নতুন মেরুকরণ তৈরি করবে, তা বলাই বাহুল্য। ভোটার তালিকা সংশোধন এবং নাগরিকত্ব ইস্যু আগামী বিধানসভা নির্বাচনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।