এক সময় তাঁর নামের আগে পোস্টারে লেখা হত ‘হট’ নায়িকা পাপিয়া অধিকারি। একশোরও বেশি ছবিতে অভিনয় করেছেন তিনি, যার মধ্যে শুধু বাংলা নয়, ছিল তামিল ও ভোজপুরি ছবিও। সিনেমার পাশাপাশি যাত্রা মঞ্চেও সমান জনপ্রিয় ছিলেন তিনি, পরিচিত ছিলেন ‘যাত্রার কুইন’ হিসাবে। সেই পাপিয়া অধিকারিকেই এক সময় চিত্রনাট্যকার গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার বলেছিলেন, তাঁর নাকি কোনও আবেদনই নেই। পরে ‘দেবীবরণ’ ছবিতে দুর্দান্ত অভিনয় করে সেই কথা ভুল প্রমাণ করেছিলেন তিনি। বহুদিন সিনেমার পর্দা থেকে দূরে থাকলেও, মঞ্চে তিনি এখনও ব্যস্ততম নায়িকা। সম্প্রতি আড্ডা স্টেশন নামের একটি ইউটিউব চ্যানেলে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে তিনি তাঁর কেরিয়ারের একটি সংলাপ এবং সেই সংক্রান্ত একটি মজার ঘটনার কথা বলেছেন, যা নিয়ে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে একসময় বেশ হইচই পড়ে গিয়েছিল।
২০০৯ সালে মুক্তি পাওয়া পরিচালক শঙ্খ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি ‘হাসি খুশি ক্লাব’-এ অভিনয় করেছিলেন পাপিয়া অধিকারি। ছবিতে জিৎ, বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী, বিশ্বনাথ বসুর মতো অভিনেতারাও ছিলেন। ছবিটি বক্স অফিসে ফ্লপ করলেও পাপিয়ার ‘রঞ্জনা বউদি’ চরিত্রটি বেশ জনপ্রিয়তা পায়। বিশেষ করে পাপিয়ার মুখে বলা একটি সংলাপ, “ঠাকুরপো, তুমি আমার দুপুর ঠাকুরপো হবে?”। সম্প্রতি ওই সাক্ষাৎকারে পাপিয়া এই সংলাপ নিয়ে একটি মজার ঘটনা শেয়ার করেন।
পাপিয়া জানান, ‘হাসি খুশি ক্লাব’ ছবিটি ফ্লপ হওয়ার পর তিনি সেই ছবির সংলাপটি প্রায় ভুলেই গিয়েছিলেন। একবার একটি অনুষ্ঠানে মঞ্চে গিয়েছেন তিনি। তাঁকে দেখে দর্শকদের মধ্যে তখন তুমুল উত্তেজনা। পাপিয়া মঞ্চে উঠে দর্শকদের উদ্দেশে কিছু বলার আগেই, ভিড়ের মধ্যে থেকে এক ব্যক্তি চিৎকার করে বলে ওঠেন, “দিদি, দুপুর ঠাকুরপো হয়ে যাক!”
ব্যক্তির কথা শুনে পাপিয়া রীতিমতো চমকে গিয়েছিলেন। তিনি কিছুতেই মনে করতে পারছিলেন না ‘দুপুর ঠাকুরপো’ আসলে কীসের সংলাপ। পাশে দাঁড়ানো ম্যানেজার নিখিলদাকে তিনি জিজ্ঞাসা করলে তিনি মনে করিয়ে দেন, এটি ‘হাসি খুশি ক্লাব’ ছবির সেই জনপ্রিয় সংলাপ। পাপিয়া অবাক হয়ে যান, যে ছবিটি ফ্লপ, সেই ছবির সংলাপ শুনতে দর্শক এত আগ্রহী! সেদিন তিনি দর্শকের আবদার মেনে মঞ্চে সেই সংলাপটি বলেন। পাপিয়ার মুখে সংলাপটি শুনে দর্শকরা তখন উল্লাসে ফেটে পড়েন।
পাপিয়া বলেন, মঞ্চে দর্শকদের উদ্দেশ্যে সংলাপটি বললেও, ছবিতে তিনি অভিনেতা জিৎকে ঠাকুরপো বলে সম্বোধন করে এই সংলাপটি বলেছিলেন। তাঁর মুখে এমন সংলাপ শুনে জিৎ নাকি রীতিমতো চমকে উঠতেন। ‘হাসি খুশি ক্লাব’ ছবিটি ফ্লপ হলেও পাপিয়ার ‘রঞ্জনা বউদি’ চরিত্রটি বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করে। এই প্রসঙ্গে পাপিয়ার মন্তব্য, “ছবি ফ্লপ হোক, পাপিয়া কিন্তু সুপারহিট।”