AI-দিয়ে প্রতিশোধের নেশায় উত্তেজক ভিডিও বানালেন প্রেমিক, গৃহবধূ সাঁচীর জীবন বিপর্যস্ত

একটি রোমানিয়ান গানের সুরে লাল শাড়িতে এক নারীর নাচের ভিডিও ইনস্টাগ্রামে ঝড় তুলেছিল। সেই ‘বেবিডল আর্চি’ নামক প্রোফাইলের ফলোয়ার সংখ্যা মাত্র কয়েকদিনে ১৪ লাখে পৌঁছে যায়। কিন্তু এই জনপ্রিয়তার পেছনে লুকিয়ে ছিল এক গৃহবধূর ব্যক্তিগত ছবি দিয়ে তৈরি করা ডিপফেক ভিডিও এবং তার সাবেক প্রেমিকের প্রতিশোধের ভয়ঙ্কর গল্প। অবশেষে আসাম পুলিশ ওই অনলাইন সেনসেশনের নেপথ্যে থাকা মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার প্রতীম বোরাকে গ্রেপ্তার করেছে।

ভুয়া প্রোফাইলের আড়ালে কে?

সাচী (ছদ্মনাম) নামের এক আসামের গৃহবধূর ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও ব্যবহার করে প্রতীম বোরা ২০২০ সালে ‘বেবিডল আর্চি’ নামে একটি ভুয়া ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইল তৈরি করেন। তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে সাচীর মুখের আদলে বিভিন্ন অশ্লীল ছবি ও ডিপফেক ভিডিও তৈরি করে ওই প্রোফাইলে আপলোড করতে থাকেন। এই বিষয়ে সাচীর কোনো ধারণাই ছিল না, কারণ বোরা তার এবং তার পরিবারের সকল সদস্যকে ওই অ্যাকাউন্ট থেকে ব্লক করে রেখেছিলেন।

যেভাবে রহস্যের উন্মোচন হলো

সাচীর ভাই যখন ভাইরাল হওয়া ভিডিওগুলো দেখেন, তখন তিনি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে কারো নাম উল্লেখ করা হয়নি, কারণ তারা জানতেন না কে এই কাজ করেছে। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ইনস্টাগ্রামের কাছে প্রোফাইলটির বিস্তারিত তথ্য চায়। ইনস্টাগ্রাম থেকে তথ্য পাওয়ার পর পুলিশ প্রতীম বোরাকে শনাক্ত করে এবং তাকে তিনসুকিয়া জেলা থেকে গ্রেপ্তার করে।

তদন্তকারী কর্মকর্তা সিজল আগরওয়াল বিবিসিকে জানান, সাচী এবং বোরার মধ্যে মনোমালিন্য হয়েছিল। প্রতিশোধ নেওয়ার উদ্দেশ্যেই বোরা এই কাজটি করেন।

১০ লক্ষ টাকা উপার্জনের অভিযোগ

পুলিশ গ্রেপ্তার করার সময় বোরার কাছ থেকে ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন, হার্ড ড্রাইভ এবং ব্যাংকের নথি বাজেয়াপ্ত করেছে। জানা গেছে, ‘বেবিডল আর্চি’ প্রোফাইলটি থেকে লিংক-এর (লিংক শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম) মাধ্যমে তিন হাজার সাবস্ক্রিপশন ছিল এবং সেখান থেকে প্রায় ১০ লাখ টাকা আয় করা হয়েছিল। পুলিশ ধারণা করছে, গ্রেপ্তারের মাত্র পাঁচ দিন আগে তিনি তিন লাখ টাকা উপার্জন করেছেন।

আইন ও নৈতিকতার প্রশ্ন

এই ঘটনা প্রযুক্তি এবং নৈতিকতার ক্ষেত্রে কিছু গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে। আইনজীবী ও এআই বিশেষজ্ঞ মেঘনা বল বলেন, “সাচীর সঙ্গে যা ঘটেছে তা ‘ভয়ঙ্কর এবং প্রতিরোধ করা প্রায় অসম্ভব’।” তিনি মনে করেন, সাচী চাইলে আদালতের দ্বারস্থ হতে পারেন, কিন্তু ইন্টারনেট থেকে এই ধরনের কন্টেন্ট সম্পূর্ণ মুছে ফেলা কঠিন। তিনি আরও বলেন, এই ধরনের ঘটনাগুলো প্রায়ই ঘটে, কিন্তু সামাজিক কলঙ্ক বা অজ্ঞতার কারণে সেগুলো কম রিপোর্ট করা হয়।

প্রতীম বোরার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি, মানহানি, অশ্লীল উপাদান প্রচার এবং সাইবার অপরাধের বিভিন্ন ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। দোষী প্রমাণিত হলে তার ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।

এই ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে এবং এ ধরনের অপরাধ মোকাবিলায় আরও কঠোর আইনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy