ভক্তদের মিছিলে মৃত্যুর থাবা! ৪টি প্রাণ কেড়ে নিল বেপরোয়া গাড়ি, গুরুতর আহত ২

ভক্তি আর উল্লাসে শিবলিঙ্গে জল ঢালার স্বপ্ন নিয়ে ফিরছিলেন একদল কাঁচাড়িয়া পুণ্যার্থী। কিন্তু তাদের সেই নির্মল আনন্দ নিমেষেই এক বিভীষিকাময় দুঃস্বপ্নে পরিণত হলো মঙ্গলবার গভীর রাতে। শিবপুরী লিংক রোডের বুক চিরে নেমে আসা এক বেপরোয়া গাড়ির তাণ্ডব কেড়ে নিল ৪টি তাজা প্রাণ, গুরুতর আহত হলেন আরও ২ জন। এই মর্মান্তিক ঘটনায় শীতলা মাতা মন্দিরের কাছে ভাদাভানা (উটিলা) এলাকার সিমরিটিয়া টাঁকা গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

রাত তখন প্রায় পৌনে একটা। ভোলানাথের নামে মগ্ন হয়ে, গান গাইতে গাইতে শীতলা মাতা মন্দিরের রাস্তা ধরে ফিরছিল ১৩ জনের একদল কাঁচাড়িয়া পুণ্যার্থী। তাদের মধ্যে ছিলেন প্রহ্লাদ বানজারা (৩৩), যিনি এই ভয়াবহ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এবং বেঁচে থাকা ভাগ্যবানদের একজন। গ্রাম তখন হাতের মুঠোয়, আর মাত্র কয়েকটা ঘণ্টা পরেই শিবলিঙ্গে জল ঢালার পুণ্য কাজ সম্পন্ন হতো। কিন্তু হঠাৎই এক বিকট শব্দ সেই শান্তিপূর্ণ রাতকে ছিঁড়ে দিল।

প্রহ্লাদের বর্ণনায়, “কিছু বুঝে ওঠার আগেই দ্রুত গতির একটি গাড়ির টায়ার ফেটে গেল এবং সেটি তাদের সারিবদ্ধ দলটিকে পিষে দিয়ে খাদে উল্টে গেল।” মুহূর্তের মধ্যে হাসিগানে মেতে থাকা দলটি পরিণত হলো এক আর্তনাদে ভরা মৃত্যুমিছিলে। পথচারীদের চিৎকারে যখন এলাকা সচকিত, ততক্ষণে ঘাতক গাড়ির আরোহীরা সুযোগ বুঝে রাতের আঁধারে পালিয়ে যায়।

মৃত্যুর মিছিল ও অবহেলার অভিযোগ:

ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান বাবা গোঁসাই (৫৫), উকিল, রমেশ, দিনেশ এবং ছোটু। এদের মধ্যে ছোটু-সহ চারজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে স্থানীয় প্রশাসন। প্রহ্লাদ ও আরও একজন গুরুতর আহত অবস্থায় ঘটনাস্থলে ছটফট করছিলেন। সিমরিয়া টাঁকা গ্রামে খবর পৌঁছাতেই শোকের কালো মেঘ নেমে আসে। স্বজনরা আর্তনাদ করতে করতে ছুটে আসেন হাসপাতালের দিকে।

তবে, মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পাশাপাশি আহতদের জন্য ট্রমা সেন্টারেও অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। স্ট্রেচারের অভাবে আহতদের নিয়ে আসা কাঁচাড়িয়ারা চিৎকার করতে থাকেন, যা জনস্বাস্থ্যের পরিকাঠামোগত দুর্বলতাকেই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়।

বর্তমানে মৃতদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে। পলাতক ঘাতক গাড়ি আরোহীদের ধরতে পুলিশের দুটি দল গঠন করা হয়েছে এবং তারা জোরদার তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে।

এই ঘটনা কেবল একটি সড়ক দুর্ঘটনা নয়, এটি সেই সমস্ত বেপরোয়া চালকদের এক মর্মান্তিক দৃষ্টান্ত, যারা আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠ দেখিয়ে নিরীহ মানুষের জীবন কেড়ে নেয়। ভক্তির পথে হেঁটে চলা পুণ্যার্থীদের এমন পরিণতি সমাজের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড়সড় প্রশ্ন চিহ্ন এঁকে দিয়েছে। পুলিশি তৎপরতা আশা জোগাচ্ছে যে, দ্রুতই অপরাধীরা ধরা পড়বে এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে, কিন্তু যে প্রাণগুলি অকালে ঝরে গেল, তার মূল্য কোনো কিছু দিয়েই পূরণ হবে না।