অন্ধকারে ধরা পড়লো তৃণমূল নেতা ও গৃহবধূ, বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে গণধোলাই —উত্তেজনা এলাকায়

জয়নগর থানার অন্তর্গত চালতাবেড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েতে সোমবার গভীর রাতে ঘটে গেল এক রোমাঞ্চকর ও বিতর্কিত ঘটনা। স্থানীয় এক তৃণমূল কনভেনর ও এক গৃহবধূকে আপত্তিকর অবস্থায় ধরে ফেলে উত্তেজিত গ্রামবাসীরা। তারপর দু’জনকে বেঁধে রাখা হয় বিদ্যুতের খুঁটিতে এবং চলে গণধোলাই। এই ঘটনার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা মহেশ হালদার চালতাবেড়িয়া পঞ্চায়েতের কনভেনর এবং তাঁর স্ত্রী সুপর্ণা হালদার একই পঞ্চায়েতের একজন নির্বাচিত সদস্য। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, মহেশ দীর্ঘদিন ধরেই তাঁদের পাশের গ্রাম বামনগাছির এক গৃহবধূর সঙ্গে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক চালিয়ে যাচ্ছিলেন। সোমবার রাতে দু’জনকে একসঙ্গে একটি মাচায় আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলেন গ্রামবাসীরা। এরপরই উত্তেজনার পারদ চড়ে যায়।
গ্রামবাসীরা জানান, মহেশ এর আগেও বিতর্কে জড়িয়েছেন। জয়নগর থানার প্রাক্তন সিভিক ভলান্টিয়ার হিসেবে কাজ করলেও, নানা অভিযোগে তাঁর চাকরি চলে যায়। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মহিলাসংক্রান্ত অভিযোগ ছিল বলেও দাবি স্থানীয়দের।
এই ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তৃণমূল নেতা ও গৃহবধূকে গ্রামবাসীদের হাত থেকে উদ্ধার করে এবং তাঁদের গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায়। তবে ঘটনাটি এখানেই থেমে থাকেনি। গৃহবধূর পরিবারের পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে মারধরের বিরুদ্ধে আলাদা অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ দু’টি পৃথক মামলার তদন্ত শুরু করেছে।
অন্যদিকে, মহেশের স্ত্রী সুপর্ণা হালদার দাবি করেছেন, ‘‘আমার স্বামীকে ফাঁসানো হয়েছে। রাতের অন্ধকারে তাঁকে ফোন করে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়। তারপর পরিকল্পিতভাবে অপমান ও মারধর করা হয়েছে।’’
মঙ্গলবার ধৃতদের বারুইপুর মহকুমা আদালতে তোলা হয়। ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হওয়ায় শাসক দলের অস্বস্তিও বেড়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। পঞ্চায়েত নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে এভাবে দলের নেতার জড়িয়ে পড়া এমন ঘটনায় দলীয় ভাবমূর্তি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। পুলিশ জানিয়েছে, উভয় পক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চলছে এবং কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।