“দম থাকলে সাংসদ পদে ইস্তফা দিয়ে দেখাক”- চ্যালেঞ্জ দিলীপের! পাল্টা জবাব দেবের

বর্ষার শুরুতেই পর পর দু’দফা বন্যায় প্লাবিত হয়েছে পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটাল। এই পরিস্থিতিতে ফের একবার আলোচনায় উঠে এসেছে বহু প্রতীক্ষিত ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দীর্ঘসূত্রিতা নিয়ে বিরোধীরা যখন সরব, ঠিক তখনই তৃণমূল সাংসদ দীপক অধিকারী (দেব)-কে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। দিলীপের এই চ্যালেঞ্জের জবাবে দেব নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন।

দিলীপ ঘোষের আক্রমণ ও চ্যালেঞ্জ
মঙ্গলবার দিলীপ ঘোষ দেবকে ‘ভালো ছেলে’ বললেও সরাসরি আক্রমণ করে বলেন, “দেবকে তৃণমূল ব্ল্যাকমেল করছে। বলেছে ভোটে না দাঁড়ালে সিনেমা করতে দেব না। দেবের যদি হিম্মত থাকে তাহলে সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে দেখাক।” এই মন্তব্যের মাধ্যমে দিলীপ মূলত দেবের রাজনৈতিক অবস্থান এবং ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়নে তাঁর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

দেব-এর পাল্টা জবাব
দিলীপ ঘোষের এই চ্যালেঞ্জের মুখে দেব নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে বলেন, “অযথা কাদা ছোঁড়াছুড়ি আমার পছন্দ নয়। তাই মুখ বুঁজে নিজের কাজ করে যাই।” তিনি আরও বলেন যে, ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান একটি অত্যন্ত জটিল প্রকল্প এবং এটি তিন মাসের মধ্যে সম্পন্ন করা সম্ভব নয়।

দেবের ভাষ্যমতে, লোকসভা নির্বাচনের আগে যখন তিনি রাজনীতি ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তখন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে ডেকে পাঠান। সেই সময় তিনি শর্ত দিয়েছিলেন যে, যদি ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়িত হয়, তবেই তিনি নির্বাচনে লড়বেন। এর পর রাজ্য সরকার ৭০০ কোটি টাকা মঞ্জুর করে। দেবের আক্ষেপ, এত পরিশ্রমের পরেও যখন তাঁকে ট্রোল করা হয়, তখন কষ্ট হয়।

‘আমি প্রথম সাংসদ নই’
দেব আরও বলেন যে, তিনি ঘাটালের প্রথম সাংসদ নন। এর আগে গুরুদাস দাশগুপ্তের মতো বর্ষীয়ান নেতাও সাতবার সাংসদ ছিলেন। যদি এই প্রকল্প এত সহজ হতো, তাহলে ৭০ বছর ধরে এটি আটকে থাকতো না। দেব বলেন, “আমি নিজের কাজ করি। কে কী বলল তাতে কান দিই না। আমি কাজ করছি কি না সাধারণ মানুষ জানে।”

তাঁর মতে, তিনি রাজনীতির লোক না হয়েও এই অঞ্চলের উন্নয়নে যে কাজ করেছেন, অনেক রাজনীতিবিদ তা করতে পারেননি। অযথা রাজনৈতিক কাদা ছোড়াছুড়ি থেকে তিনি দূরে থাকতে পছন্দ করেন। এই মন্তব্যের মাধ্যমে দেব একদিকে যেমন দিলীপ ঘোষের চ্যালেঞ্জের জবাব দিয়েছেন, তেমনই নিজের কাজ এবং প্রতিশ্রুতির উপর আস্থা রেখেছেন।