২০১৮ সালে ভারতে #MeToo আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটিয়ে যিনি হাজারো নারীর কণ্ঠস্বরে পরিণত হয়েছিলেন, সেই অভিনেত্রী তনুশ্রী দত্ত আবারও এক মর্মস্পর্শী অভিযোগ নিয়ে প্রকাশ্যে এসেছেন। সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে তাঁকে হাউহাউ করে কাঁদতে দেখা গেছে, যেখানে তিনি দাবি করছেন যে, নিজের বাড়িতেই তিনি ভয়াবহ হেনস্থার শিকার হচ্ছেন। কান্নায় ভেঙে পড়া অভিনেত্রীর এমন অবস্থা দেখে শিউরে উঠেছেন তাঁর অনুরাগীরা এবং নাগরিক সমাজের একাংশ।
‘আশিক বনায়া আপনে’ ছবির মাধ্যমে একসময় যিনি দর্শকদের হৃদয়ে ঝড় তুলেছিলেন, সেই তনুশ্রী এই হৃদয়বিদারক ভিডিওটি নিজের ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলে পোস্ট করেছেন। ক্যাপশনে তিনি স্পষ্ট লিখেছেন, “আমি এই হেনস্থায় ক্লান্ত, ক্লান্ত! ২০১৮ সাল থেকে এটা চলছে। #meToo আজ অত্যন্ত বিরক্ত হয়ে আমি পুলিশকে ফোন করেছি। দয়া করে কেউ আমাকে সাহায্য করুন।” এই পোস্টটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং নেটিজেনদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি করে।
ভিডিওতে কী বললেন তনুশ্রী?
ভাইরাল হওয়া ভিডিওটিতে তনুশ্রী দত্তকে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়া অবস্থায় দেখা যায়। কান্নায় রুদ্ধকণ্ঠে তিনি বলেন, “আমার নিজের বাড়িতেই আমি হেনস্থার শিকার হচ্ছি। আমি শুধু পুলিশকে ফোন করেছি। তারা আমাকে থানায় আসতে বলেছে সঠিক অভিযোগ জানাতে। আমি হয়ত আগামীকাল বা পরশুদিন থানায় যাব। আমি ভাল নেই। আমি ভাল নেই। আমাকে বিগত ৪-৫ বছর ধরে এত হেনস্থা করা হয়েছে…”
শুধু মানসিক যন্ত্রণা নয়, এই দীর্ঘদিনের হেনস্থার প্রভাবে তাঁর স্বাস্থ্যেরও চরম অবনতি হয়েছে বলে জানান তনুশ্রী। তিনি বলেন, “আমি কোনো কাজ করতেই পারছি না। আমার পুরো ঘর অগোছালো হয়ে পড়ে আছে। আমার বাড়িতে পরিচারকও রাখতে পারি না কারণ আগে পরিচারকের সঙ্গে আমার খুবই খারাপ অভিজ্ঞতা হয়েছিল।” তাঁর এই বক্তব্য থেকে বোঝা যাচ্ছে, হেনস্থার ধরণ এবং তার মাত্রা কতটা গভীর।
#MeToo-এর পর নতুন সংকট:
২০১৮ সালে নানা পাটেকরের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ এনে তনুশ্রী দত্ত ভারতে #MeToo আন্দোলনকে এক নতুন মাত্রা দিয়েছিলেন। সেই সময় তিনি বলিউড সহ সমাজের বিভিন্ন স্তরের ক্ষমতাশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মুখ খোলার সাহস যুগিয়েছিলেন। কিন্তু আজকের এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করে দিল যে, ক্ষমতার বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলার পর একজন ব্যক্তির জীবন কতটা জটিল এবং বিপদসংকুল হয়ে উঠতে পারে। তনুশ্রীর বর্তমান অবস্থা প্রশ্ন তুলছে, একজন সাহসী নারীর লড়াই কি এখানেই শেষ?
যদিও ঠিক কী ধরনের হেনস্থার শিকার তিনি হচ্ছেন, তা তিনি স্পষ্ট করেননি, তবে তাঁর কান্না এবং ‘চার-পাঁচ বছর ধরে হেনস্থা’ হওয়ার কথা থেকে বোঝা যায়, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এক দীর্ঘস্থায়ী মানসিক এবং সম্ভবত শারীরিক নির্যাতনের শিকার তিনি। তার বাড়ির পরিচারক সংক্রান্ত মন্তব্যও রহস্য বাড়িয়েছে।
এখন সবার চোখ পুলিশের দিকে। তনুশ্রী দত্ত কবে থানায় গিয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেন এবং পুলিশ এই বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেয়, সেটাই দেখার বিষয়। একসময় যিনি অন্ধকারে আলোর দিশারী হয়েছিলেন, আজ সেই তিনিই নিজের বাড়িতে অন্ধকার দেখছেন। তনুশ্রীর এই অসহায় আর্তনাদ কি কর্তৃপক্ষের কানে পৌঁছবে? নাকি #MeToo আন্দোলনের এই মুখ আবারও একা লড়তে বাধ্য হবেন? এই প্রশ্নগুলোই এখন সমাজের বিবেককে নাড়া দিচ্ছে।