সাবধান! প্রি-ডায়াবেটিসের এই লক্ষণগুলো আপনার ত্বকে দেখা যাচ্ছে না তো?

ডায়াবেটিস একটি ক্রনিক অবস্থা যেখানে রক্তে শর্করার মাত্রা অনেকটাই বেড়ে যায়। ইনসুলিনের উৎপাদন কমে যাওয়া বা শরীরের ইনসুলিন প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির কারণে এই রোগ দেখা দেয়। সাধারণত টাইপ ১ এবং টাইপ ২ – এই দুই ধরনের ডায়াবেটিস দেখা যায়। ছোটবেলায় ডায়াবেটিস হলে তা টাইপ ১ এবং প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে টাইপ ২ ডায়াবেটিস বেশি দেখা যায়।

তবে, অনেকেই ‘প্রি-ডায়াবেটিস’ সম্পর্কে অবগত নন। এটি ডায়াবেটিস হওয়ার পূর্বাবস্থা, যেখানে রক্তে শর্করার পরিমাণ ডায়াবেটিস নির্ণয়ের মাত্রায় না পৌঁছালেও স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকে। ভবিষ্যতে এমন ব্যক্তিদের ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি, তাই তাদের বিশেষভাবে সচেতন থাকা জরুরি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রি-ডায়াবেটিস পর্যায়ে রোগ ধরা পড়লে জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন এবং সঠিক সতর্কতার মাধ্যমে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করা সম্ভব। এই অবস্থায় রোগ নির্ণয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

প্রি-ডায়াবেটিসের লক্ষণ কী কী?

প্রি-ডায়াবেটিসের কিছু নির্দিষ্ট লক্ষণ রয়েছে যা প্রাথমিকভাবে ত্বকে প্রকাশ পেতে পারে। এই লক্ষণগুলি সম্পর্কে সচেতন থাকলে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা সম্ভব:

ত্বকে ফুসকুড়ি: প্রি-ডায়াবেটিসে আক্রান্ত মানুষের শরীরে হঠাৎ করে ফুসকুড়ি দেখা দিতে পারে। এই ফুসকুড়ি শরীরের যেকোনো স্থানে, এমনকি পা থেকে শুরু করে কানে পর্যন্ত দেখা যেতে পারে।

ত্বক শক্ত হয়ে যাওয়া (ডিজিটাল স্ক্লেরোসিস): টাইপ ১ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার আগে ডিজিটাল স্ক্লেরোসিস দেখা দিতে পারে। এক্ষেত্রে ত্বকের কোনো অংশ, বিশেষত কনুইয়ের ত্বক মোমের মতো শক্ত ও পুরু হয়ে যায়।

ত্বকে বাদামি ছোপ (ডায়াবেটিস ডার্মোপ্যাথি): এটি টাইপ ১ ডায়াবেটিসের আরও একটি পরিচিত লক্ষণ। এক্ষেত্রে ত্বকের বিভিন্ন অংশে বাদামি রঙের ছোট ছোট দাগ বা ছোপ দেখা দেয়। এই দাগগুলো সাধারণত নিরাময় হতে দেরি করে।

পায়ে লাল বা হলদেটে ফুসকুড়ি (নেক্রোবায়োসিস লিপোইডিকা ডায়াবেটিকোরাম): যদি কারও পায়ের নীচের দিকে লাল বা হলদেটে ফুসকুড়ি বের হয়, তবে এটি নেক্রোবায়োসিস লিপোইডিকা ডায়াবেটিকোরাম নামক একটি অবস্থা হতে পারে, যা প্রি-ডায়াবেটিসের একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ।

পায়ে ক্ষত (ডায়াবেটিক ফুট): ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য পায়ের ছোটখাটো ক্ষতও মারাত্মক বিপজ্জনক হতে পারে। ডায়াবেটিক ফুটের ক্ষেত্রে পায়ে আলসার বা গভীর ক্ষত তৈরি হয়, যা সহজে শুকোতে চায় না। এমন কোনো ক্ষত পায়ে দেখলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

হাত-পায়ে জলের ঠোসা (বুলোসিস ডায়াবেটিকোরাম): হাত-পায়ে জলের ঠোসার মতো ফোস্কা হওয়াকে বুলোসিস ডায়াবেটিকোরাম বলে। এক্ষেত্রে সাধারণত কোনো ব্যথা থাকে না। ডায়াবেটিক নিউরোপ্যাথি থাকা রোগীদের এই সমস্যা বেশি দেখা যায়।

এছাড়াও, কিছু সাধারণ লক্ষণ যেমন – চোখে কম দেখা, দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়া, বারবার জল তৃষ্ণা পাওয়া, অতিরিক্ত মূত্রত্যাগ এবং ছোটখাটো কেটে গেলে সহজে না শুকানো ইত্যাদিও প্রি-ডায়াবেটিসের ইঙ্গিত হতে পারে। এই ধরনের কোনো লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক। সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় এবং জীবনযাপনে পরিবর্তন আনার মাধ্যমে আপনি ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে পারেন।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy