বর্তমান জীবনযাত্রায় উচ্চ রক্তচাপের রোগীর সংখ্যা ক্রমশ বেড়েই চলেছে। অনেকেই বহু চেষ্টা করেও এই রোগ নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেন না। তবে সাম্প্রতিক এক গবেষণা উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত রোগীদের জন্য নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে। নতুন গবেষণা বলছে, নিয়মিত টক দই খেলেই নাকি কমতে পারে ব্লাড প্রেশার।
আমেরিকার ইউনিভার্সিটি অব মেইন-এর এক বিশেষ গবেষণায় এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। এই গবেষণায় বিশেষজ্ঞরা টক দইয়ের সঙ্গে ব্লাড প্রেশার এবং হার্টের স্বাস্থ্যের সম্পর্ক খুঁজে বের করার চেষ্টা করেছেন। গবেষকরা দেখেছেন যে, প্রতিদিন টক দই খেলে রক্তচাপ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। এই গবেষণার ফলাফল ইন্টারন্যাশনাল ডায়েরি জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সারা বিশ্বে অসংখ্য মানুষ উচ্চ রক্তচাপ বা হাই ব্লাড প্রেশারে আক্রান্ত। এই হাই ব্লাড প্রেশার স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাকের মতো মারাত্মক রোগের ঝুঁকি বাড়ায় এবং প্রতি বছর অসংখ্য মানুষের প্রাণ কেড়ে নেয়। তাই মূল সমস্যা, অর্থাৎ রক্তচাপকে নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত জরুরি।
এই গবেষণার অন্যতম গবেষক আলেকজান্ডার ওয়েড বলেন, “এই গবেষণা আমাদের সামনে চমকপ্রদ তথ্য এনে দিয়েছে। আমরা জানতে পেরেছি, টক দই খেলে ব্লাড প্রেশার কমে। এমনকি এর সঙ্গে কার্ডিওভাস্কুলার বিভিন্ন অসুখে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও কমতে পারে।” তিনি আরও যোগ করেন, “ডেইরি ফুডের মধ্যে টক দই পারে ব্লাড প্রেশার নিয়ন্ত্রণে রাখতে। এর মধ্যে থাকা ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম সহ বেশ কিছু উপাদান রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম।”
এছাড়াও, টক দইয়ের মধ্যে থাকা প্রোবায়োটিক (উপকারী ব্যাকটেরিয়া) শরীরের সার্বিক স্বাস্থ্য ভালো রাখে। প্রোবায়োটিক অন্ত্রে উপস্থিত ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার সঙ্গে লড়াই করে হজম প্রক্রিয়া ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। তাই তিনি সকলকে নিয়মিত টক দই খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
এই গবেষণাটি ৯১৫ জন মানুষের উপর পরিচালিত হয়েছিল। গবেষণায় দেখা যায়, যে মানুষগুলি প্রতিদিন টক দই খেয়েছেন, তাদের রক্তচাপের মাত্রা যারা টক দই খান না তাদের তুলনায় অনেকটাই কম। তাই, যারা উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায় ভুগছেন, তারা আজই টক দই খাওয়া শুরু করতে পারেন।
তবে পুষ্টিবিদদের পরামর্শ, টক দইয়ের পরিবর্তে মিষ্টি দই কোনোভাবেই খাওয়া যাবে না। আর বাজারের কেনা দইয়ের চেয়ে বাড়িতে বানানো টক দই স্বাস্থ্যের জন্য আরও বেশি উপকারী।