প্রেমে পড়া যতটা সহজ, সেই সম্পর্ককে সাফল্যের পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াটা ততটাই কঠিন। আর সব প্রেমের পরিণতি যে সম্পর্ক বা বিয়ে, এমনটাও নয়। অনেক সময় একজন হয়তো নিজেকে সম্পর্কে আছে বলে মনে করেন, কিন্তু অন্যজনের আচরণে স্পষ্ট হয় যে এটি নিছকই ‘প্রেম-প্রেম’ একটি ব্যাপার, সত্যিকারের সম্পর্ক নয়। যদি সঙ্গী তার মনোভাব স্পষ্ট না করে সম্পর্ককে অনিশ্চয়তার মধ্যে ঝুলিয়ে রাখেন, তবে তা কখনোই সুখের হয় না।
আপনিও কি এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন? আপনার সঙ্গী ঠিক কী চান, তা কয়েকটি লক্ষণ মিলিয়ে নিলেই বুঝতে পারবেন। চলুন, সঙ্গীর মনোভাব জানার সেই কৌশলগুলো জেনে নিই:
১. পরিবার ও বন্ধুদের থেকে দূরত্ব:
যদি আপনার সঙ্গী এই সম্পর্ক নিয়ে সন্দিহান থাকেন বা এটিকে আদৌ সম্পর্ক মনে না করেন, তাহলে তিনি কখনোই আপনাকে তার পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে পরিচয় করাবেন না। কারণ তিনি হয়তো ভাবছেন, এই সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী হবে না, তাই পরিচিত মহলে জানানোর প্রয়োজন নেই। এটি ‘ঝুলিয়ে রাখার’ একটি বড় লক্ষণ।
২. দায়বদ্ধতা বা কমিটমেন্ট এড়িয়ে যাওয়া:
যাদের সম্পর্ক ‘ঝুলিয়ে রাখার’ মানসিকতা থাকে, তারা নিজেদের অত্যন্ত স্বাধীনচেতা ও ভবঘুরে হিসেবে তুলে ধরতে চান। সম্পর্কের ভবিষ্যৎ বা কমিটমেন্ট নিয়ে কোনো প্রশ্ন করলে তারা সোজাসাপটা উত্তর দিতে পারেন না, বরং উদাসীনভাবে প্রশ্নগুলো এড়িয়ে যান। মনোবিদদের মতে, তারা জেনে বুঝেই এমনটা করেন। কিন্তু এই নিয়ে চাপ দিলে বা প্রশ্ন তুললে তারা দুর্ব্যবহার করতে শুরু করে দিতে পারেন।
৩. নিজের সুবিধা অনুযায়ী সাক্ষাৎ:
একটি সুস্থ সম্পর্কে থাকলে উভয়েরই পরস্পরের সঙ্গে দেখা করার তীব্র ইচ্ছে থাকে। কিন্তু আপনার সঙ্গী যদি শুধু তার নিজের সুবিধা অনুযায়ী দেখা করেন এবং আপনার চাওয়াকে গুরুত্ব না দেন, তাহলে বুঝতে হবে তিনি এই সম্পর্ককে ততটা গুরুত্ব দিচ্ছেন না। এটি ইঙ্গিত দেয় যে, তিনি এই সম্পর্কে আপনার চেয়ে নিজের প্রয়োজনকেই বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন।
৪. প্রয়োজনের সময়ে অনুপস্থিতি:
এ ধরনের সঙ্গীদের আপনি প্রয়োজনের সময় খুব কমই পাশে পাবেন। তারা এই সম্পর্কটায় অসম্পূর্ণভাবে জুড়ে থাকেন। এর কারণ হতে পারে, আপনাকে তিনি হয়তো একটি ‘বিকল্প’ হিসেবে ভেবে রেখেছেন, অথবা সম্পর্কটি নিয়ে এখনও পুরোপুরি নিশ্চিত নন। আপনার খারাপ সময়ে যদি তিনি পাশে না থাকেন, তাহলে বুঝবেন সম্পর্কটি একতরফা।
৫. মেসেজ বা ফোনের উত্তরের জন্য অপেক্ষা করানো:
সম্পর্কে ঝুলিয়ে রাখার অন্যতম স্পষ্ট লক্ষণ হলো, তারা কখনোই আপনার মেসেজ বা ফোনের উত্তর একবারে দেবেন না। আপনাকে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করিয়ে রাখবেন, যা আপনার মানসিক চাপ বাড়াতে পারে। এটি তাদের উদাসীনতা এবং সম্পর্ককে হালকাভাবে নেওয়ার মানসিকতার প্রতিফলন।
৬. মেজাজ অনুযায়ী আচরণ:
এসব সঙ্গী নিজের মেজাজ অনুযায়ী আপনার সঙ্গে কথা বলবেন। যখন তাদের মেজাজ ভালো থাকে, তখন তারা আপনার সঙ্গে এত আন্তরিক ও গদগদ হয়ে কথা বলবেন যে আপনি হয়তো ভাববেন, এই তো আপনার স্বপ্নের মানুষ! কিন্তু হঠাৎ করেই ২-৩ দিন তাদের কোনো পাত্তা থাকবে না, কোনো যোগাযোগ করবেন না। এই ধরনের আচরণ বোঝায় যে সম্পর্কটা মোটেই সিরিয়াস নয়, বরং এটি তাদের সুবিধামতো পরিচালিত হচ্ছে।
যদি আপনার সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই লক্ষণগুলির একাধিক দেখতে পান, তাহলে সঙ্গীর সঙ্গে সরাসরি কথা বলা জরুরি। একটি অসম্পূর্ণ বা অনিশ্চিত সম্পর্ক দীর্ঘমেয়াদে মানসিক কষ্টের কারণ হতে পারে।